নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরের মহিলাদের হ্যান্ড মেড টির ব্যাপক সাড়া কলকাতায়। ৩০ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হল হোয়াইট টি। দু’হাজার টাকা কেজি দামে বিকোলো অর্থোডক্স ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি কিংবা ওলং টি। এই প্রথমবার কলকাতায় নিজেদের হাতে তৈরি চা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মহিলারা।
উত্তরবঙ্গের মহিলাদের হ্যান্ড মেড টির বিপণনে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় সল্টলেকে। ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেয় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের একাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ফার্মাস প্রোডিওসার কোম্পানি। সেখানে হ্যান্ড মেড টি যেভাবে কদর পেয়েছে, তাতে আপ্লুত উত্তরের মহিলারা। কাউন্টার থেকেই বিক্রি হয়েছে ৫০ কেজির বেশি চা। সবমিলিয়ে আরো ৫০ কেজি চায়ের বরাত মিলেছে। ময়নাগুড়ির জামতলা প্রোগ্রেসিভ ফার্মার্স প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের সদস্যা দীপ্তি রায় বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা হ্যান্ড মেড টি বানাচ্ছি। কিন্তু সেভাবে বিক্রির বাজার ছিল না। ফলে কিছুটা হলেও হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। এবারই প্রথম আমরা হাতে তৈরি চা নিয়ে কলকাতায় এসেছিলাম। এতটা সাড়া পাব, ভাবিনি। আমরা যে পরিমাণ চা নিয়ে এসেছিলাম, সবটাই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে খুশির খবর, ২ হাজার টাকা কেজি থেকে আমরা ৩০ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত আমরা চা বিক্রি করেছি। এতে আমাদের মনোবল অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
কলকাতায় উত্তরের মহিলাদের হ্যান্ড মেড টি কদর মেলায় খুশি জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, হাতে তৈরি চায়ের বিদেশে বিশেষ চাহিদা আছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ১৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা হ্যান্ড মেড টি তৈরি করছেন। এতদিন তাঁরা বিক্রির প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছিলেন না। আমরা তাঁদের হ্যান্ড মেড টি বিক্রি ও বিপণনের জন্য সল্টলেকে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলাম। শুধু তাই নয়, মার্কেটিংয়ের স্বার্থে ‘তিস্তা’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ওই চা প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। আগামী দিনে তাঁরা যাতে হ্যান্ড মেড টি বিক্রির জন্য আরো বড় প্ল্যাটফর্ম পান, সেদিকে নজর থাকবে আমাদের। সেইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমরা টি বোর্ডের সঙ্গেও কথা বলছি। বিজয়গোপালের দাবি, উত্তরের মহিলাদের হাতে তৈরি চা অনলাইনে বিক্রির জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির ব্যাপারে ইতিমধ্যে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে টি বোর্ড।
কোচবিহারের মহিলাদের হাতে তৈরি চা নিয়ে সল্টলেকের প্রদর্শনীতে যোগ দিয়েছিলেন দ্বারিকামারি ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানির সদস্য রতন রায় প্রামাণিক। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, কলকাতায় হ্যান্ড মেড টি যে এতটা সমাদৃত হবে, ভাবতে পারিনি। এবার আমরা প্রস্তুত। আরো বেশি করে হাতে তৈরি চা প্রস্তুতের উপর জোর দেওয়া হবে। জলপাইগুড়ির রুকরুকা স্মল টি ফার্মার্স প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের সভাপতি দেবাশিস রায় বলেন, আমাদের জেলা থেকে পাঁচটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি হ্যান্ড মেড টি নিয়ে সল্টলেকে প্রদর্শনীতে যাওয়া হয়েছিল। কোনো চা ফেরত আসেনি। এতে আমরা যথেষ্টই উজ্জীবিত। বিক্রির বাজার পেলে যেসব মহিলা হাতে তৈরি চা তৈরি করছেন, তাঁরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। আরো বেশি মহিলা হ্যান্ড মেড টি তৈরির ব্যাপারে উৎসাহিত হবেন।