নয়াদিল্লি: পাড়ায় দু’টো এটিএম। তাও হিমশিম খেতে হয়। কোনোদিন এটিএমে টাকা থাকে না। কোনোদিন আবার স্ক্রিনে লেখা— আউট অব সার্ভিস। আবার ছুটতে হয় অন্য এটিএমে। ইদানিং এই ছবিটা বেশ চেনা। সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যানও সেই কথাই তুলে ধরেছে। দেশে নগদের পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে। কিন্তু ধুঁকছে এটিএম পরিষেবা। বছরের পর বছর ধরে কমছে এটিএমের সংখ্যা। এমনকী সেখানে পর্যাপ্ত টাকাও থাকছে না।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে নগদের পরিমাণ (ক্যাশ ইন সার্কুলেশন) প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। নোট বাতিলের পর ২০১৭ অর্থবর্ষে নগদের পরিমাণ ছিল ১৩ লক্ষ কোটি টারা। ২০২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ৪১ লক্ষ কোটি টাকা। এই সময়কালে নোটের সংখ্যা ১০ হাজার কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ হাজার কোটি হয়েছে। নগদ টাকা বাড়লেও অপ্রত্যাশিতভাবে ধাক্কা খেয়েছে এটিএম নেটওয়ার্ক। ২০২৩ অর্থবর্ষে এটিএমের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ১৯ হাজার। ২০২৬ অর্থবর্ষে তা কমে হয়েছে ২ লক্ষ ৯ হাজার। এটিএম থেকে টাকা তোলার পরিমাণও কমেছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা তোলার মোট লেনদেন হয়েছে ৬৮৫ কোটি। ২০২৬ অর্থবর্ষে তা কমে হয়েছে ৫৩৪ কোটি। এই সময়কালে এটিএম থেকে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা তোলার পরিমাণ ৩২ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২৮ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। নগদ টাকার পরিমাণ বাড়লেও এটিএমে পর্যাপ্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে না কেন? কোথায় ঘাটতি হচ্ছে? ডিজিটাল পেমেন্ট তো বেশ কয়েকবছর ধরেই চলছে, হঠাৎ করে এটিএমের কেন এমন বেহাল দশা? এমনই প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
এনিয়ে সরব হয়েছে কনফেডারেশন অব এটিএম ইন্ডাস্ট্রি (সিএটিএমআই)। ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-কে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। জানা গিয়েছে, এটিএমগুলিতে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের মাত্র ৫৫-৬৫ শতাংশ আসছে। এর জেরে প্রায়ই টাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও শহরতলিতে যেখানে এটিএম নির্ভরতা বেশি, সেখানে সমস্যায় পড়ছেন আমজনতা। এটিএমের যান্ত্রিক ত্রুটিও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক ব্যাংক ম্যানেজারের বক্তব্য, এটিএম চালাতে গিয়ে মোটা টাকা খরচ হচ্ছে। সর্বক্ষণ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা ব্যয়বহুল বিষয়। আরবিআইয়ের নির্দেশ মতো ই-সার্ভিলেন্স সিস্টেমেও বেশি খরচ হয়। দিন দিন এটিএম রক্ষণাবেক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে।