Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সবুজ অরণ্যে লুকিয়ে শ্বেত পাথরের পাহাড়, বেলপাহাড়ীর অজানা ঠিকানায় পা পর্যটকদের

সবুজ অরণ্যে লুকিয়ে শ্বেত পাথরের পাহাড়, বেলপাহাড়ীর অজানা ঠিকানায় পা পর্যটকদের
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর সবুজ অরণ্যে লুকিয়ে রয়েছে শ্বেত পাথরের পাহাড়। ভোরে সূর্যের আলোয় পাহাড় চূড়া লাল, সোনালি রঙে ঝলমল করে ওঠে। পাখির ঝাঁক পাহাড়ের চারপাশজুড়ে উড়ে বেড়ায়। গভীর অরণ্যে লুকিয়ে থাকা কেন্দাপাড়ার হাসাডুংরি বা শ্বেত পাথরের পাহাড়ের কথা বাইরের জগতের মানুষ আজও জানে না। বন পাহাড়ের মানুষ ধামসা মাদল নিয়ে শুক্রবার প্রকৃতি উৎসবে মেতে উঠবেন।

Advertisement

বেলাপাহাড়ীর ইন্দিরচক থেকে সাড়ে তিন কিমি পাহাড়ী পথ পেরলে শ্বেত পাহাড় দেখা পাওয়া যাবে। গভীর অরণ্যে মাঝে সুউচ্চ পাহাড়টি রয়েছে। জঙ্গল এলাকার মানুষ এই পাহাড়ের কথা জানেন। বিস্তীর্ণ এই জঙ্গল ও পাহাড় এখনও দুর্গম। জঙ্গল লাগায়ো গ্ৰামের মানুষরাও কদাচিত এখানে যান। এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, জঙ্গলে অরণ্যের দেব দেবীরা থাকেন। জঙ্গলের ক্ষতি হলে তাঁরা রুষ্ট হন। জঙ্গলের গাছের ডালে কচি পাতা এসেছে। পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। জঙ্গলের মানুষ বাহা বোঙ্গা বা ফুলের উৎসব শুরু করে দিয়েছেন। জঙ্গলঘেরা গ্ৰামগুলোতে ধামসা মাদলের সুর শোনা যাচ্ছে। বসন্তে উৎসব উপলক্ষ্যে পর্যটকদের আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বেলপাহাড়ীর অজানা জঙ্গল পাহাড় এলাকায় পর্যটকদের যাওয়ার উৎসাহ বাড়ছে। বন বিভাগের নির্দেশ মেনে পর্যটকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। ঝাড়গ্রামের সীমানা লাগোয়া সন্দাপাড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের কেন্দাপাড়া গ্ৰাম। এখানেই রয়েছে হাসাডুংরি। পাহাড় চূড়ায় উঠে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের পাহাড়শ্রেণি ও ঘন জঙ্গলের দেখা মেলে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে প্রকৃতির আপন খেয়ালে পাখির ঝাঁক ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন, দিনের শুরু ও শেষকে স্বাগত জানাতেই পাখিরা এখানে আসে। হাসাডুংরির পুরো পাহাড়টায় সাদা পাথরের। কয়েক কিমি দূরে চাতনডুংরি পাহাড়ের গায়েও সাদা পাথরের দেখা মেলে। কেন্দাপাড়ার বাসিন্দা উপেন হেমব্রম বলেন, সাদা পাথরের পুরো পাহাড় এই এলাকায় একটিই রয়েছে। চাতনডুংরি পাহাড়ের কিছু কিছু জায়গায় সাদা পাথর দেখা যায়। জঙ্গল পাহাড় আমাদের কাছে পবিত্র স্থান। গাছে নতুন পাতা, ফুল এসেছে। এক সপ্তাহ আগে থেকেই আমাদের ‘বাহা বঙ্গা’ ফুলের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। জামবনীর সেবা ভারতী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রণব সাহু বলেন, হাসাডুংরি ডলোমাইট ও চুনাপাথরের পাহাড়। এই এলাকা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সাদা পাহাড় এলাকার প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, বেলপাহাড়ী সব হোটেল, লজ, রিসর্ট, হোম স্টে বুকিং হয়ে গিয়েছে। পর্যটকদের আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে পর্যটকদের জন্য ঝাড়গ্রাম বনদপ্তরের নির্দেশকা অনুযায়ী ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে এখানে বসন্ত উৎসব পালন করতে পারেন সেটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক বিধান ঘোষ বলেন, পর্যটন ব্যবসায়ীরা যাতে বন বিভাগের নির্দেশ মেনে চলেন সেটা আমাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে। দপ্তরের থেকেও পর্যটনস্থলগুলোতে নজরদারি চালানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ