পরামর্শে জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের মেডিসিনের অধ্যাপক ডাঃ কৌশিক হাজরা।
পরামর্শে জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের মেডিসিনের অধ্যাপক ডাঃ কৌশিক হাজরা।
হার্টের রোগ: কম বয়সি মহিলাদের মধ্যে হার্টের রোগের ঝুঁকি কম। কারণ, ইস্ট্রোজেন হরমোন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা থাকে না। তবে মেনোপজের পর মহিলাদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের এই সুবিধা কমে, হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
স্টোন: কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণগুলি হল স্থূলত্ব, জল কম খাওয়া ইত্যাদি। নিয়মিত মদ্যপান, অতিরিক্ত মাংস ও নুন খাওয়াও বড় কারণ। পুরুষদের মধ্যে কিডনি স্টোন বেশি হয়। এক্ষেত্রেও ইস্ট্রোজেন মহিলাদের রক্ষা করে। মেয়েদের গল স্টোনের ঝুঁকি বেশি।
হার্নিয়া: পুরুষের ইনগুইনাল হার্নিয়া বেশি হয়। বয়সের সঙ্গে পেটের পেশি দুর্বল হওয়া, প্রস্টেটের আকার বড় হওয়ার কারণে এমন হয়। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী কাশি রয়েছে বা যাঁরা ভারী ওজন তোলেন, তাঁদেরও বেশি হয়। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীর ফিমোরাল হার্নিয়া বেশি হয়।
চুল পড়া: পুরুষের টাক পড়ার সমস্যা বেশি হয় টেস্টোস্টেরনের জন্য। মহিলাদের থাইরয়েড, পিএমওএস, মেনোপজের কারণে চুল পাতলা হয়।
পেট ও লিভারের সমস্যা: পেপটিক আলসার, গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা বেশি হয় পুরুষের। আইবিএস পুরুষ-মহিলা উভয়ের হলেও ভোগেন বেশি মহিলারা। ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য পেটের সমস্যা বেশি বয়সি মহিলাদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
স্ট্রোক: হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, ধূমপানের প্রবণতার কারণে পুরুষদের স্ট্রোকের হার বাড়ছে। মহিলাদের মেনোপজের পর স্ট্রোকের প্রবণতা বাড়ে।
ক্যানসার: ফুসফুস, লিভার ক্যানসার ছেলেদের বেশি হয়। ছেলেদের প্রস্টেট ক্যানসার এবং মহিলাদের ব্রেস্ট ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ: পুরুষদের ব্লাড প্রেশারের সমস্যা বেশি হয়। মেনোপজের পর মহিলাদের হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
কিডনির রোগ: পুরুষের ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায় টেস্টোস্টেরন। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং সুগার সিকেডি-এর আশঙ্কা বাড়ায়। মহিলাদের কিডনির রোগের আশঙ্কা কমায় ইস্ট্রোজেন।
মানসিক সমস্যা: ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি মহিলাদের বেশি হয়।
লিখেছেন: শুভজিত্ অধিকারী