সুতপা গুহ, ইটানগর: সরকার বলছে উন্নয়নের কথা। উত্তর পূর্বের রাজ্যে দেশের সর্ববৃহৎ বাঁধ নির্মাণের স্বপ্নের কথা। উলটো দিকে আদিবাসীদের হাহাকার, ক্ষোভ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। অরুণাচল প্রদেশজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি। সিয়াং নদীর উপর গেকু গ্রামে প্রস্তাবিত বাঁধের প্রতিবাদে স্থানীয়দের ক্ষোভ এবার হিংসার রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে জখম দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন। অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশের বিজেপির রাজ্য সভাপতি কালিং ময়ং, পাসিঘাট পশ্চিমের বিধায়ক নিনং এরিং এবং মারিয়াং-গেকুর বিধায়ক ওনি পানিয়াং-এর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পাসিঘাটে এনএইচপিসি-র অফিসেও আগুন লাগানো হয়েছে। বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে সিয়াং, আপার সিয়াং ও পূর্ব সিয়াং এলাকাতেও।
১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’-এর বিরুদ্ধে কয়েকদিন ধরেই আন্দোলনে নেমেছেন আদিবাসীরা। তাঁদের কথায়, বাঁধটি তৈরি হলে ২৭ টি গ্রামের প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় কীভাবে বাঁধ নির্মাণ করবে সরকার? এতে স্থানীয় গ্রামগুলি বন্যার কবলে পড়বে। এনিয়ে সিয়াংয়ের বাসিন্দা ওলাক পাদুং বলেন, ‘আমাদের বাঁধের প্রয়োজন নেই। পৈতৃক ভিটে, চাষের জমি ছেড়ে কোথায় যাব আমরা? কী খাব?’ আপার সিয়াং জেলার গেকু গ্রামের বাসিন্দা মিংকাংয়ের কথায়, ‘চাষাবাদই একমাত্র জীবিকা। বাঁধ তৈরি হলে বিশাল ক্ষতি হবে। সব ডুবে যাবে।’ এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু বলেন, ‘হিংসার আশ্রয় না নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পকে ঘিরে ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। এগুলি দূর করতে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি’।
আন্দোলনের মাঝে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশি ফান্ডিংয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পাসিঘাটের হিংসার ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থার হাতে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, বন্ধের পর স্থানীয় যুবক ও জেন জি-র একাংশকে সংঘবদ্ধভাবে আন্দোলনে সামিল করা হয়েছিল। আন্দোলনের আইনি উপদেষ্টা ভানু টাটাক, মানবাধিকার কর্মী এবো মিলি ও ওতুল জেরাং সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভানু টাটাকের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। সংস্থার দাবি, ২০২২-২০২৫ সালের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ২০ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদেশি অর্থ জমা পড়েছে। ফিলিপিন্স, আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের একাধিক সংস্থা থেকে ওই টাকা এসেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



