Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রথম দফার সব আপলোড হওয়ার আগেই দ্বিতীয় তালিকা! কোথায় ট্রাইবুনাল? অপেক্ষা বাড়ছে ডিলিটেড ভোটারদের

‘বিচারাধীন’ তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা এখন কী করবেন? তাঁরা কি ভোটাধিকার হারাতে চলেছেন? অন্তত এবারের নির্বাচনে? এই আশঙ্কা কার্যত সত্যি হতে চলেছে।

প্রথম দফার সব আপলোড হওয়ার আগেই দ্বিতীয় তালিকা! কোথায় ট্রাইবুনাল? অপেক্ষা বাড়ছে ডিলিটেড ভোটারদের
  • ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বিচারাধীন’ তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা এখন কী করবেন? তাঁরা কি ভোটাধিকার হারাতে চলেছেন? অন্তত এবারের নির্বাচনে? এই আশঙ্কা কার্যত সত্যি হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, বিচারাধীন তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা আবেদন জানাতে পারবেন ‘ট্রাইবুনালে’। কিন্তু সূত্রের খবর, সাতদিন আগে বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও সেই ‘ট্রাইবুনাল’ গঠনের প্রক্রিয়া এখনও বিশ বাঁও জলে। ফলে কোথায় আবেজন জানাবেন ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা? স্রেফ নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অন্ধকারে।

Advertisement

গত সোমবার প্রকাশ হয়েছে বিচারাধীন ভোটারদের প্রথম তালিকা। জানা গিয়েছে, ওই তালিকায় নিষ্পত্তি হওয়া ১০ লক্ষের কিছু বেশি নাম প্রকাশিত হয়েছে। কমিশনের সার্ভারে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় বাকি ভোটারদের তথ্য তালিকায় তোলা যাচ্ছে না। আর এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হয়েছে বলে দাবি করেছে কমিশন। তাতে ঘোর বিভ্রান্তিতে পড়েছেন আগেই তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটাররা। 
‘বিচারাধীন’দের প্রথম তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়া ভোটাররা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। কিন্তু তারপর চারদিন কেটে গিয়েছে। এখনও ট্রাইবুনালই গঠন হয়নি। কোথায় আর ঠিক কবে থেকে সেই ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা বিচারপতিরা কাজ শুরু করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। ফলে বাদ পড়া ভোটাররা কীভাবে সেখানে আবেদন জানাবেন, তা নিয়ে আপাতত ঘোর আতান্তরে পড়েছেন। আগামী ৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়নের শেষ দিন। দ্বিতীয় দফার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল। এরপরই দফাভিত্তিক ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ট্রাইবুনালে নিজেকে ভোটার প্রমাণ করতে পারলেও এই সময়ের মধ্যে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হলে ভোটাধিকার মিলবে না। স্বাভাবিকভাবে দু’-একদিনের মধ্যে ট্রাইবুনাল যদি গঠন হয়েও যায়, তবু ভোটার তালিকার ফ্রিজ হওয়ার ডেডলাইনের আগে কোনোভাবেই লক্ষ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। এই আবহেই এদিন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সূত্রের খবর, বৈঠকে ট্রাইবুনাল গঠন নিয়ে জট কাটেনি। ২৩টি জেলার জন্য যে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে ,তাতে এখনও ছাড়পত্র দেয়নি হাইকোর্ট। 
ইতিমধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, পাসপোর্ট-আধারের মতো বৈধ নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের ভোটার সুরজ আলমের নাম। তাঁর অভিযোগ, ‘পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলাম। তাও নাম বাদ দিয়েছে। এখন অনলাইনে আবেদন জানানো যাচ্ছে না। অফলাইনে ডিএম, এসডিওরাও আবেদন গ্রহণ করছেন না। এখন আমরা কোথায় যাব?’        
যদিও কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘এখনও আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ট্রাইবুনাল গঠন নিয়ে হাইকোর্টের তরফে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ওই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের কার্যালয় তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ যদিও কমিশনের এই যুক্তি মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, বর্তমানে রাজ্য প্রশাসন কমিশনের অন্তর্গত। তাহলে ট্রাইবুনালের কার্যালয় ঠিক করতে অসুবিধা কোথায়? শুধুমাত্র কমিশনের গাফিলতিতেই ‘আবেদন জানানোর’ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ ভোটার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ