নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ: চিত্র ১) বৃহস্পতিবার সকাল। ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের লাহোর। আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বেজে উঠল সাইরেন। ভয়ে-আতঙ্কে রাস্তায় নেমে এলেন হাজার হাজার মানুষ।
নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ: চিত্র ১) বৃহস্পতিবার সকাল। ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের লাহোর। আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বেজে উঠল সাইরেন। ভয়ে-আতঙ্কে রাস্তায় নেমে এলেন হাজার হাজার মানুষ।
চিত্র ২) ভারতীয় ড্রোনের নিশানায় রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়াম। স্টেডিয়াম সংলগ্ন একটি রেস্তরাঁ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত। সামনের কাচ ভেঙে গিয়েছে। পুড়ে ছাই শৈল্পিক কারুকার্য। সামনে পুলিসের ভিড়। সাধারণ মানুষকে কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে সেই ছবি।
চিত্র ৩) রাজধানী শহর ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার সেখানেও সকালের চেনা নীরবতা ভেঙে সাইরেনের ‘ভোঁ’ শব্দ। মুহূর্তে আতঙ্ক ছাড়াল বাড়ি, অফিস, বাজারে।
লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি বা ইসলামবাদের এই চিত্রগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা পাকিস্তানেই প্রায় একই ছবি। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানার পর বদলা নিতে শুরু করেছে ভারত। মঙ্গলবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে জয়েশ-লস্করের ঘাঁটি। বুধবার রাত থেকে প্রত্যাঘাত চলছে পাক সেনার ‘ইনস্টলেশন’গুলিতে। তাতেই ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান। এরপর কোথায় হামলা চালাবে ভারত? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে শাহবাজ শরিফ সরকারের। এখন গদি বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ পাক প্রধানমন্ত্রীর। কারণ, তিনি মুখে বড় বড় কথা বললেও ভারতের প্রত্যাঘাতের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ধস শেয়ার বাজারে। সূচক নেমেছে ৬ শতাংশেরও বেশি। ড্রোনহানার জেরে বাণিজ্যনগরী করাচিতে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল শেয়ার বাজারও। এখানেই শেষ নয়, হু হু করে কমছে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও। ঋণে ডুবে থাকা পাকিস্তানের কাছে যা অশনিসঙ্কেত বলেই মত তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।
ভারতের একের পর এক প্রত্যাঘাতের পর করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদ বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এরমধ্যে লুফৎহানসা, এয়ারফ্রান্সের মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তারা আপাতত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করবে না। ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও। করাচি, লাহোরে একাধিক ট্রেনও বাতিল।
এই পরিস্থিতির জন্য শাহবাজ সরকারকেই দায়ী করছে সাধারণ পাকিস্তানিরা। প্রশাসনের কোনও কথাই বিশ্বাস করছেন না তাঁরা। প্রকাশ্যে সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হচ্ছে। এরমধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি বাইকে করে রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের বাইরে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় ড্রোন হানার খবর চাপতে চাইছে প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতি দেখতে ভিতরে ঢুকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বাধা দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বলা হয়, ‘আসমানি বিজলি’ (বাজ) পড়েছে। উল্লেখ্য, এদিন ড্রোন হানার পরই এখানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লিগের সমস্ত খেলা বাতিল করা হয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও। বিদেশি খেলোয়াড়রা তড়িঘড়ি পাকিস্তান ছাড়তে চাইছেন। আমেরিকাও পাক দূতাবাসের কর্মরত ও সেদেশের থাকা মার্কিন নাগরিকদের সাবধানে থাকতে বলেছে।