Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিনভর বৃষ্টিতেও ঠান্ডা হচ্ছে কই? ভ্যাপসা গরমে ঘাম মুছতে মুছতে প্রশ্ন শহরবাসীর

সারাদিন জানলার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকাই যেত। কিন্তু কাজের দিন বলে বড় বালাই। তাই ছাতা হাতে বৃষ্টি মাথায় অফিস যেতেই হল সবাইকে।

দিনভর বৃষ্টিতেও ঠান্ডা হচ্ছে কই? ভ্যাপসা গরমে ঘাম মুছতে মুছতে প্রশ্ন শহরবাসীর
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারাদিন জানলার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকাই যেত। কিন্তু কাজের দিন বলে বড় বালাই। তাই ছাতা হাতে বৃষ্টি মাথায় অফিস যেতেই হল সবাইকে। বাস-মেট্রো থেকে রাস্তায় নেমে চোখে পড়ল কালো মেঘ। উপর থেকে ধেয়ে এল বৃষ্টির ফোঁটা। এ সত্ত্বেও নিম্নচাপের মেঘলা আকাশ এবং ঝিরঝিরে বৃষ্টি মোটেও ঠান্ডা বয়ে আনল না। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও মনে হল কমেনি। ফলে বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশল শরীরের ঘাম। রুমাল দিয়ে তা মুছে কলকাতার বাসিন্দারা জিজ্ঞেস করলেন, ‘দিনভর বৃষ্টি হল, কিন্তু আবহাওয়া ঠান্ডা হল কই?’ গড়িয়াহাটে দাঁড়িয়ে বারুইপুরের বাসিন্দা শ্রীজীব গোস্বামী বললেন, ‘ট্রেনে ওঠার পর থেকে ঘামছি। এই বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে তাও ঘামছি। মনেই হচ্ছে না সারাদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে।’ এ কথার প্রমাণ হাতেনাতে দিল আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট। তারা জানাল, বৃহস্পতিবার বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ। সর্বনিম্ন ৭৪। 

Advertisement

মাথার উপর মেঘ। বৃষ্টি। তবুও বৃহস্পতিবার মিনিট পাঁচেক হাঁটতেই গলদঘর্ম দশা। রাস্তায় হকাররা ত্রিপল নিয়ে একবার মালপত্র ঢাকছেন তো কিছুক্ষণ পর আবার ত্রিপল খুলছেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় মাথায় ছাতা। আর হাতে ঘাম মোছার রুমাল। নিম্নচাপের বর্ষণ সত্ত্বেও শহর এবং আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা ভ্যাপসা গরমেই দিন কাটালেন। তবে এ ছবি শহরাঞ্চলের। নিম্নচাপ মোটেও রেহাই দিল না দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাকে। সেখানে জলোচ্ছ্বাস। নদীবাঁধ ভেঙে বিপত্তি। নোনাজল ঢুকে গিয়ে ভাসিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
কলকাতায় সকাল থেকে ঝিরঝির করে চলছিল। দুপুরের পর একনাগারে বৃষ্টি। উত্তর শহরতলিতে বৃষ্টির প্রভাব কম। দক্ষিণ শহরতলি ও হাওড়াতেও আবহাওয়া একইরকম। জনজীবন বিপর্যস্ত। সুযোগ বুঝে বাড়িয়ে দেওয়া হল অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া। এদিনই আবার অ্যাপ ক্যাব চালকরা দাবিদাওয়া নিয়ে মিছিল করেন। ফলে রাস্তায় বেরিয়ে প্রবল সমস্যায় বহু মানুষ। এদিন খাবার সহ অন্যান্য ডেলিভারি সংস্থার কর্মীরাও খুব সমস্যায় পড়েন। রেনকোট পরে বাইক চালাচ্ছিলেন হাওড়ার দিগন্ত মান্না। ধর্মতলায় শেডের নীচে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ঘেমে নেয়ে গেলাম একেবারে। বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট ঝাপসা। দেখতেই পাচ্ছি না কিছু। তবু গরম। অদ্ভুত ওয়েদার!’ এদিকে কাদা মেখে রাস্তাঘাট প্যাচপ্যাচে। ফলে প্যান্ট গুটিয়ে নিতে হল। শাড়ি উঠল হাঁটুর কাছে।
ওয়েলিংটন চত্বরে দোকানের উনুনের ধোঁয়া মিশছে হাওয়ায়। লাল চায়ে চুমুক দিয়ে আইটি কর্মী সুহাস মিত্র বলেন, ‘গরম চা খেতে খেতে বৃষ্টি দেখার মজাই আলাদা। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরনোর পর জলকাদায় হাল খারাপ হয়ে গিয়েছে একেবারে।’ দিনের শেষে সরকারি নথি বলছে, কলকাতার জিনজিরা বাজার পাম্পিং স্টেশন জোনে সর্বোচ্চ ২২ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। সিপিটি চ্যানেল পাম্পিং স্টেশন জোনে ২১.৬০ মিমি, দত্তবাগান ও ঠনঠনিয়া পাম্পিং স্টেশন এলাকায় ১৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। তবে শহরের কোথাও সেভাবে জল জমেনি বলে পুরসভার দাবি। কিন্তু মানুষের অভিযোগ, ইএম বাইপাস সহ কিছু জায়গায় রাস্তার ধারে জল জমে যায়। কলকাতা পুরসভার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোডে একটি গাছ পড়ে যায়। সেটি পরে সরানো হয়। 
তবে প্রবল গরমের পর আকাশ হল কালো। দিনভর বৃষ্টিও হল। কিন্তু প্রত্যাশিত স্বস্তি মিলল না। ‘তবে কাঠফাটা রোদের চেয়ে তো ভালো...’ সাফ জানাল মহানগর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ