Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেরল উপকূল দিয়ে দেশে বর্ষার প্রবেশ কবে? ধন্দে হাওয়া অফিস

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষাকাল কেরল উপকূল দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে কবে নাগাদ প্রবেশ করবে তা সোমবার নিশ্চিত করে পর্যন্ত জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর।

কেরল উপকূল দিয়ে দেশে বর্ষার প্রবেশ কবে? ধন্দে হাওয়া অফিস
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষাকাল কেরল উপকূল দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে কবে নাগাদ প্রবেশ করবে তা সোমবার নিশ্চিত করে পর্যন্ত জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর। আগে বলা হয়েছিল, এই প্রক্রিয়া ২৬ মে মঙ্গলবারের আশপাশে হতে পারে। আগামী ২৮-২৯ মে নাগাদ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এইসময় সাধারণত কোনো নিম্নচাপ সাগরে তৈরি হলে তা মৌসুমি বায়ুকে সক্রিয় করে। এই নিম্নচাপ কতটা শক্তি বৃদ্ধি করে সেদিকেও নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। কারণ এটা বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সময়। ঝোড়ো  হাওয়ার জন্য আগামী ২৮-২৯ মে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশার উপকূল এলাকার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না-যাওয়ার পরামর্শ এদিনই দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। 

Advertisement

এদিকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে অস্বস্তিকর গরম (হট অ্যান্ড হিউমিড) সোমবারও অব্যাহত ছিল। ২৮ মে, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বেশি মাত্রার ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যে জানিয়েছে। এটা হলে গরমের কষ্ট কিছুটা কমবে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অধিকাংশ জেলায় আপাতত ‘হলুদ’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলার  জন্য  সোমবারই ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। তার মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ছাড়াও হুগলি, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া প্রভৃতি আছে। বুধবারও বেশিরভাগ জেলায় ঝড়বৃষ্টির ‘হলুদ’ ও ‘কমলা’ সতর্কতা এদিন দেওয়া হয়েছে। ‘কমলা’ সতর্কতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি এবং ‘হলুদ’ সতর্কতার ক্ষেত্রে তা ৪০-৫০ কিমি হতে পারে। সোমবারও বিক্ষিপ্তভাবে রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বীরভূম, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলার কোনো কোনো জায়গায় ‘কমলা’ সতর্কতা দেওয়া হয়। 
কলকাতাসহ রাজ্যের উপকূল সংলগ্ন ও কাছাকাছি এলাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার জন্য ভ্যাপসা অস্বস্তিকর গরম চলছে। কলকাতায় এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৫.২) স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কমই ছিল। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ছিল বেশি। তার প্রভাবে ভোরবেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (৩০ ডিগ্রি) স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেশি ছিল।
বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতির জন্য এখন উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ৭৫ থেকে ১৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এইসময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রায়গঞ্জে। তারপরের স্থান কালিম্পংয়ের ঝালংয়ের। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে মুর্শিদাবাদে বহরমপুরে সর্বাধিক ২৩ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে রবিবার সবচেয়ে বেশি গরম ছিল পুরুলিয়ায় (৪১.৩ ডিগ্রি)। তবে আবহাওয়ার বিচারে দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ‘তাপপ্রবাহ’ নেই। জানা গিয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ও পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি অংশেও আগামী কয়েকদিন সাধারণ থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা বজায় থাকছে।

সম্পর্কিত সংবাদ