প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চারটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন। সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি কালচার, অবৈধভাবে রোড ট্যাক্স আদায় এবং চোলাইয়ের ঠেক নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে নাগরিকরা ওই চারটি নম্বরে ফোন করে তা জানাতে পারবেন। নিষ্পত্তি হবে দ্রুত। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকে নবান্নের একতলার কন্ট্রোল রুমে অবিরাম বেজে চলেছে ফোন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০০-এর বেশি ফোন এসেছে। তবে সেই ফোনের বেশিরভাগই কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়। যে ফোনে কাটমানি বা চোলাইয়ের ঠেক নিয়ে অভিযোগ আসার কথা, সেখানে কল করে লোকে জানতে চাইছে, ‘অন্নপূর্ণার টাকা কবে ঢুকবে?’ কেউ আবার রীতিমতো ঝাঁঝালো প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন, ‘আমার স্ত্রীর অন্নপূর্ণা ঢুকল না কেন? আর কী করতে হবে?’ শুধু অন্নপূর্ণা যোজনা নয়, ফোন আসছে আয়ুষ্মান ভারত, বার্ধক্য ভাতা নিয়েও। এমনকি, বাড়ির ইলেকট্রিক বিল কেন বেশি এল, সেই প্রশ্নও পেয়েছেন কন্ট্রোল রুমের কর্মীরা। পাশের বাড়ির সঙ্গে জমি নিয়ে বিবাদের সমাধান চেয়েও ফোন এসেছে! দিনভর এসব ফোন সামলাতে জেরবার অবস্থা কর্মীদের। এই পরিস্থিতিতে টোল ফ্রি নম্বরগুলি কী কারণে চালু করা হয়েছে, তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। সেই মতো প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে খবর প্রশাসনিক সূত্রে।



