Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা? সরব বিজেপি সমর্থকরা

রাজ্যে পালাবদলের পর উত্তর ২৪ পরগনায় ভোট পরবর্তী হিংসা ও রাজনৈতিক অত্যাচারের অভিযোগে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে

অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা? সরব বিজেপি সমর্থকরা
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে পালাবদলের পর উত্তর ২৪ পরগনায় ভোট পরবর্তী হিংসা ও রাজনৈতিক অত্যাচারের অভিযোগে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোথাও গ্রেপ্তার হয়েছেন কাউন্সিলার। কোথাও পঞ্চায়েত স্তরের নেতারা শ্রীঘরে দিন কাটাচ্ছেন। সেই আবহে বারাসতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে একটাই দাবি— ‘অত্যাচারীদের গ্রেপ্তার করা হোক।’ 

Advertisement

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিজেপি নেতা-কর্মীরাও এই দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। বিজেপি কর্মী থেকে শুরু করে নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ দাবি করা আমজনতার বক্তব্য, কয়েক বছরে বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল তৃণমূল। অভিযোগ উঠছে, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের মারধর, বাড়িছাড়া, ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি, জমি দখল, পুকুর ভরাট থেকে শুরু করে নানা ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকির মুখে পড়তে হত সাধারণ মানুষকে। ভোটের আগে বিজেপির সভায় এই অভিযোগ সামনে এনে পদ্মশিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভোট মিটলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। 
২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তারা। বারাসত শহরে তালিকায় ছিল কাউন্সিলার থেকে প্রভাবশালী নেতাদের নাম। কিন্তু সময় গড়ালেও বড়ো কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে দাবি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশের। আর তা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, যারা এতদিন অত্যাচার করেছে, মারধর করেছে, এলাকা ছাড়া করেছে, আজ তারাই আবার আগের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে প্রশ্ন করছে তাহলে পরিবর্তন কোথায়? বারাসত শহরের বাসিন্দা দিবাকর মিদ্যার কথায়, অন্য এলাকায় পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। বারাসতেও যাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। দোষী হলে গ্রেপ্তার করা হোক। কারণ, তারা বিগত ১৫ বছরে অরাজকতা তৈরি করেছে। 
এদিকে, সোমবার বারাসত পুরসভায় প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, পুরসভার একটি ঘর দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি জায়গা কীভাবে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হল এবং প্রশাসন এতদিন নীরব ছিল কেন? যদিও তৃণমূলের তরফে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বারাসতের পরিস্থিতি এখন শুধু রাজনৈতিক তরজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছে। কারণ একাংশের মানুষের বক্তব্য, তারা চাইছেন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ফলে বারাসতের অলিগলি থেকে রাজনৈতিক মহল— এখন একটাই দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, ‘ তদন্ত হোক। আর অত্যাচারীদের জেলের ঘানি টানানো হোক।’ এনিয়ে বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলছেন, তৃণমূলের কোনো মস্তান বাইরে থাকবে না। অপেক্ষা করুন, অনেক কিছুই দেখবেন। যদিও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ