নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা ভাষার স্বার্থে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটাই উঠে এল ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা মানিক সরকারের মুখে। গত কয়েকদিনের ঘটনায় সামনে এসেছে দিল্লি, ওড়িশা, মুম্বই, অসম সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষজন হেনস্তার স্বীকার হচ্ছেন। তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে, বাংলা ভাষাভাষীদের উপর অত্যাচার চলছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষা রক্ষার স্বার্থে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২১ জুলাই দলের সমাবেশ থেকে ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে। তার প্রতিবাদে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এই আবহে মমতার কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা মানিক সরকারের মুখে। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই এখন বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। এসব করছে বিজেপি-আরএসএস। তারা একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করেছে। বাংলা যাঁদের মাতৃভাষা, তাঁরা সেই ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয়ে গেল, এটা ঠিক নয়। মানিকের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি-আরএসএস নতুন সংবিধান তৈরির নামে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এটা তারমধ্যে একটি। সংখ্যালঘু, দলিত বিদ্বেষী মনোভাব দেখাচ্ছে বিজেপি।
গত সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যে কর্মসূচি নিয়েছিল, তার প্রসঙ্গ টেনে আনেন মানিক সরকার। জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই বাৎসরিক কর্মসূচি করেছে মুখ্যমন্ত্রীর দল। বিরাট জমায়েত হয়েছিল কলকাতায়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন গোটা বিষয়টি। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে তকমা দেওয়াকে তা আমরা সমর্থন করি না।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বলছে, সিপিএমের বিলম্বিত বোধোদয়। বাংলা ভাষার জন্য যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মমতা, তাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শামিল হচ্ছেন। এবার মানিক সরকার বুঝতে পেরেছেন, বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।