Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাড়া পোড়াতে গিয়ে ভস্মীভূত গমখেত, মৃত্যু একজনের

নাড়া পোড়াতে গিয়ে ভস্মীভূত গমখেত, মৃত্যু একজনের
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর ও চাঁচল: নিয়ম মানছেন না গমচাষিরা। কৃষি দপ্তরের নিষেধ উড়িয়ে মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ও চাঁচল ১ ব্লকের বিভিন্ন খেতে নাড়া পোড়ানো চলছেই। 

Advertisement

গমের নাড়া পোড়াতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির মৃত্যু হল। মৃতের নাম মহম্মদ জালালুদ্দিন (৫২)। বিশেষভাবে সক্ষম এই ব্যক্তির বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিধুয়া গ্রামে। পুলিস দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। জালালুদ্দিনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া পরিবার সহ গোটা গ্রামে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিধুয়া মাঠে নিজের জমির গমের নাড়া পোড়াতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন তিনি। পরিবারের লোকেরা তড়িঘড়ি তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসক মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। সেদিন রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের স্ত্রী নাসেরা বিবি জানান, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিল। দিনমজুরি করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন। এখন কীভাবে সংসার চলবে, বুঝতে পারছি না।
জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম বলেন,  কৃষি দপ্তর ও প্রশাসন প্রতিবছর চাষিদের সচেতন করে থাকে। গমের নাড়া না পোড়াতে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এবছরও প্রচার চালানো হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ নিয়ম মানছেন না। বুধবার নাড়া পোড়াতে গিয়ে ভস্মীভূত হয়ে গেল দুই চাষির‌ দুই বিঘা জমির গম। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারো গ্রামের ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের নাম সাইদুল আলি ও মঞ্জুর আলম। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে গমের নাড়ায় কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুন ধরে যায় পাশের পাকা গমের জমিতে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে গম। মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে যায় দুই বিঘা জমির গম। ব্লক কৃষি আধিকারিক পলাশ সিদ্ধা বলেন, মানুষকে সচেতন করা সত্ত্বেও এই ধরনের কাজ করছেন। চাঁচল ১ ব্লকের নিমগাছি এলাকাতেও খেতে নাড়া পোড়ানোর ছবি লক্ষ্য করা গিয়েছে বুধবার। চাঁচল ১ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা দীপঙ্কর দেব বলেন, জমিতে আগুন লাগানোর ফলে পরিবেশেরও ক্ষতি হবে। এনিয়ে দপ্তরের তরফে বারবার কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ