Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

পুজোর আগে ফিটনেস ফিরে পেতে কী কী যোগব্যায়াম ও আসন করবেন?

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের বাকি মাত্র দু’সপ্তাহ। এই অল্প সময়টুকুও যদি ঠিকমতো ব্যবহার করা যায়, কিছুটা ফিটনেস ফিরতে বাধ্য। তবে ভরসা রাখতেই হবে আদি অকৃত্রিম যোগব্যায়ামে।

পুজোর আগে ফিটনেস ফিরে পেতে  কী কী যোগব্যায়াম ও আসন করবেন?
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:০৯
Prefer us on Google

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের বাকি মাত্র দু’সপ্তাহ। এই অল্প সময়টুকুও যদি ঠিকমতো ব্যবহার করা যায়, কিছুটা ফিটনেস ফিরতে বাধ্য। তবে ভরসা রাখতেই হবে আদি অকৃত্রিম যোগব্যায়ামে। কোন কোন যোগা এই অল্প সময়ে সারা বছরের ক্লান্তি দূরে সরাবে, শরীরের তরতাজাভাব ও ফিটনেস ফেরাবে? জানালেন রাজ্য যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি কাউন্সিলের সভাপতি তুষার শীল।

Advertisement

গতিময় ধনুরাসন—
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুটি পায়ের গোছ বা পাতাকে দুই হাত দিয়ে ধরুন। অর্থাৎ পা দুটিকে ভাঁজ করে দুই হাত দিয়ে ধরুন। এখন শ্বাস নিতে নিতে পায়ের পাতা না ছেড়ে শরীরটিকে টান টান করার চেষ্টা করলেই ধনুকের মতন শরীর বেঁকে যাবে। পর মুহূর্তেই শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীরটিকে ঢিলে করে দিন। পায়ের পাতা কিন্তু ছাড়বেন না। আবার শ্বাস নিতে নিতে ধনুরাসনে চলে আসুন। পুনরায় শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীরকে ঢিলে করে দিন। এইভাবে ১০-১৫ বার করুন। এটি হল গতিময় ধনুরাসন। সবশেষে একটি প্রাণায়াম করুন। শিরদাঁড়া সোজা রেখে অর্থাৎ টান টান রেখে বজ্রাসন বা পদ্মাসন বা যে কোন ধ্যানাসনে বসুন। নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিন। পরমূহূর্তে গভীর লম্বাভাবে শ্বাস ছাড়ুন। এইভাবে এক  থেকে তিন মিনিট করুন। প্রতি খেপে ১০-১৫ বার করে একটু বিশ্রাম নিয়ে দুই-তিন খেপ অভ্যাস করবেন। ১০-১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম যথেষ্ট।

 উপবিষ্ট পরিবর্তিত বিভক্ত পশ্চিমোত্তানাসন—
এটি কেমন জানেন? দুই পায়ের মাঝে আড়াই তিন ফুট ফাঁক রেখে মেঝেতে বসে পড়ুন। হাত দুটি শরীর দুই পাশে মাটির সমান্তরাল তুলে রাখুন। এইবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে যে কোনও একটি দিকে হাঁটুতে মাথা লাগিয়ে দিন। তার সাথে হাত দিয়ে পায়ের আঙুলগুলি স্পর্শ করুন। ধরুন ডান হাঁটুতে মাথা ঠেকাচ্ছেন, তখন বাম হাত ডান পায়ের পাতা স্পর্শ করবে। ডান হাতকে শরীরের পিছনদিকে বেঁকিয়ে দেবেন। এইবার শ্বাস নিতে নিতে পূর্ব অবস্থায় অর্থাৎ সোজা হয়ে বসুন। কিন্তু হাত দুটিকে মাটির সমান্তরালভাবেই তুলে রাখবেন দুই পাশে। এখন ডান হাত দিয়ে একইভাবে মাথা নামিয়ে নিয়ে গিয়ে বাম পায়ে আঙুলগুলি ধরুন। মাথা ঝুঁকিয়ে নিয়ে গিয়ে বাম পায়ের হাঁটুতে লাগিয়ে দিন। পুনরায় শ্বাস নিতে নিতে উঠে বসুন।  কিন্তু হাত দুই দিকে পাশে তোলা থাকবে। এইভাবে প্রতিদিকে দশবার করে আসনটি অভ্যাস করুন। এতে পেট ও কোমরের মেদ কমবে দূর হবে। কোষ্ঠবদ্ধতা বেড়ে যাবে। শরীরের চামড়া হবে টানটান।

দণ্ডায়মান পার্শ্ব অর্ধচন্দ্রাসন—
এই আসনটি করবার সময় যেহেতু গতিময় করব, সেজন্য দুই পায়ের মাঝে ১৫-২০ ইঞ্চি ফাঁক রেখে দাঁড়ান। হাত দুটি মাথার উপর টানটান করে তুলে দিন। এক হাতে তালু দিয়ে অপর হাত ধরে নিন। দুই হাত যেন কানের সঙ্গে লেগে থাকে। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীরটিকে যে কোনও একদিকে বেঁকিয়ে দিন। পুনরায় শ্বাস নিতে নিতে উঠে দাঁড়ান। আবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীরকে অপরদিকে বেঁকিয়ে দিন। দুইদিকে মিলে ১৫-২০ বার করবার চেষ্টা করুন। কোমরের অতিরিক্ত মেদ কমবেই কমবে। 

অর্ধকূর্মাসন সহ হস্ত সরল ভুজঙ্গাসন— 
ভুজঙ্গাসনের মত উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটি অর্থাৎ হাতের তালু দুটি বুকের দুইপাশে পাতবেন। এইবার শ্বাস নিতে নিতে হাত দুটি সোজা করে দিন। তার সঙ্গে সঙ্গে দেখবেন বুক ও পেটেরও কিছু অংশ মাটি থেকে উঠে পড়ছে। এখন শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে হাত দুটি মাটিতে রেখেই ঠাকুর প্রণামের মতন হাঁটুর উপর গিয়ে বসবেন। ঠিক যেন ঠাকুর প্রণাম করছেন। হাতের তালু কিন্তু একই জায়গায় থাকবে। পুনরায় শ্বাস নিতে নিতে উপুড় হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। পরে শ্বাস বন্ধ রেখেই হাত দুটিকে সোজা করে দিন। একে বলে সরল হস্ত ভুজঙ্গাসন। তারপর ওই একইভাবে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে অর্ধকূর্মাসন অবস্থানে চলে যান। এভাবেই এই ভুজঙ্গাসনটি করুন ১০-১৫ বার। এতে হাত, পেট ও বুকের অতিরিক্ত মেদ অবশ্যই কমবেই কমবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ