শ্রীনগর: মঙ্গলবার মধ্যরাতে অপারেশন সিন্দুর চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। এই প্রত্যাঘাতে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি। চোখের জল মুছে সান্ত্বনা পেয়েছে পহেলগাঁওয়ে মৃত পর্যটকদের স্ত্রী'রা। কারণ তাঁরাই চোখের সামনেই নিজেদের স্বামী-পরিজনদের খুন হতে দেখেছেন। ভারতীয় সেনার তরফে অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যের পর মুখ খুলেছেন এই নিহত পর্যটকদের স্ত্রী'রা।
পহেলগাঁওয়ে গিয়ে জঙ্গি হানায় প্রাণ হারান পুনের সন্তোষ জগদলে। অপারেশন সিন্দুরের পর মুখ খোলেন তাঁর স্ত্রী প্রগতি জগদলে। তিনি জানান, "অপারেশনের নাম শোনার পর আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমি সরকারকে মন থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। জঙ্গিরা যেভাবে আমাদের মেয়েদের সিঁদুর মুছে দিয়েছে, তারপর এটাই উপযুক্ত জবাব।"
কানপুরের বাসিন্দা শুভম দ্বিবেদীর স্ত্রীও সিন্দুর নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, "আমার স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার পুরো পরিবারের তার উপর আস্থা ছিল, এবং তিনি যেভাবে (পাকিস্তানকে) জবাব দিয়েছেন, তাতে তিনি আমাদের আস্থাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এটাই আমার স্বামীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমার স্বামী যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি আজ শান্তিতে থাকবেন।"
পুনের বাসিন্দা কৌস্তব গানবতের স্ত্রী সঙ্গীতা গানবতে জানান, "সেনা বাহিনীর তরফে দারুণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিন্দুর নাম দিয়ে তাঁরা নারীদের সম্মান করেছে। আমি এখনও কেঁদে চলেছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ধরণের পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। জঙ্গিদের নির্মূল করে দেওয়া উচিত।"
পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলার দিনে সেখানে হাজির ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারীও। স্ত্রী সোহিনী অধিকারীর সামনে খুন করা হয় বিতানকে। এদিন তিনি জানান, " আমাদের বিচারের দাবি ছিল। যেটা চেয়েছিলাম ভারত সরকার সেই অ্যাকশন নিয়েছে। মোদি সরকারের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে। আমার স্বামী নিশ্চয়ই এটা উপর থেকে দেখছে। আমার সিঁদুর যারা কেড়েছে, তাদের শাস্তির দরকার ছিল। আমার স্বামী যেখানে আছে শান্তি পেয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কারও কপালের সিঁদুর না মোছে। সরকারের কাছে আমার এই অনুরোধ রইল।"