


প্রথমবার বিমান সফর করবেন সুস্মিতা। কলকাতা থেকে দিল্লি। অফিসের কাজ। চাপা রোমাঞ্চ নিয়েই নিরাপত্তা তল্লাশির লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আচমকা ব্যাগ থামালেন সিআইএসএফ অফিসার। জানালেন, ‘এই পারফিউমটা কেবিন ব্যাগে নেওয়া যাবে না।’ তখনই খেয়াল হল সুস্মিতার। প্রিয় পারফিউমের বোতলটা ১০০ মিলিলিটারের থেকে বড়ো। অগত্যা আধিকারিকের নির্দেশ মেনে ফেলে দিতে হল শখের পারফিউম। পাশাপাশি ফেলতে হল ব্যাগে থাকা নেলকাটারটাও। সুস্মিতার পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রাহুল। সিকিউরিটি চেকের সময় দেখা গেল, পাওয়ার ব্যাংকের ক্ষমতা সীমিতমানের তুলনায় বেশি। দীর্ঘ তর্কের পর সেটিও ফেলে দিতে হল।
প্রতিদিন অসংখ্য বিমান যাত্রী এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। হাতব্যাগ বা কেবিন ব্যাগের নিয়ম না জানলে ভোগান্তি নিশ্চিত। নির্ঝঞ্ঝাট জার্নির জন্য সঠিক নিয়মে ব্যাগ গোছানো জরুরি। কেবিন ব্যাগে কী নেওয়া যায় আর কী যায় না, জানা দরকার।
কেবিন ব্যাগ কী?
বিমানের জন্য দু’টি ব্যাগ নির্দিষ্ট করা থাকে। প্রথম, চেক-ইন লাগেজ। অর্থাৎ এই ব্যাগটি কাউন্টারে জমা দিয়ে বিমানের কার্গো হোলে পাঠানো হয়। অন্য ছোটো ব্যাগটি যাত্রী নিজের সঙ্গে বিমানের ভিতরে নিয়ে যেতে পারেন। এটিই কেবিন ব্যাগ বা হাতব্যাগ। সাধারণত এর ওজন ৭ কেজির মতো হয়। সিটের উপরে রাখার মতো ব্যাগ হতে হবে। বিমান সংস্থার উপর ব্যাগের ওজন নির্ভর করে। এই ব্যাগে রাখা জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপত্তা বিধি অত্যন্ত কড়া।
কেবিন ব্যাগে যা নেওয়া যায়:
প্রত্যেক বিমান সংস্থার আলাদা গাইড লাইন রয়েছে। তবে সকলের ক্ষেত্রে কয়েকটি জিনিস সমান।
১. ইলেকট্রনিক সামগ্রী
মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, ক্যামেরা, ইয়ারফোন, সবই কেবিন ব্যাগে নেওয়া যায়। বরং দামি ইলেকট্রনিক্স চেক-ইন ব্যাগে না রাখাই ভালো। নিরাপত্তা চেকের সময় এগুলি আলাদা করে ট্রে-এর মধ্যে রাখতে হয়। আবার পাওয়ার ব্যাংকও কেবিন ব্যাগে রাখার অনুমতি পাওয়া যায়। বড়ো বা হাই-ক্যাপাসিটি পাওয়ার ব্যাংকের অনুমতি মেলে না।
২. ওষুধ: নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ, ইনহেলার, ইনসুলিন নিতে পারেন। প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখলে ভালো। সেক্ষেত্রে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। সিরাপ ১০০ মিলিলিটারের বেশি হলে আলাদা করে জানাতে হয়। এটা যে কোনো তরলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরলের অনুমতি সাধারণত পাওয়া যায় না।
৩. নথিপত্র ও মূল্যবান জিনিস: যে কোনো মূল্যবান জিনিস হাতব্যাগে রাখাই শ্রেয়। কারণ চেক-ইন লাগেজ আপনার সঙ্গে থাকবে না। সে জন্য পাসপোর্ট, টিকিট, টাকা, গয়না রাখুন এই ব্যাগেই।
৪. প্রসাধনী: পারফিউম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, শ্যাম্পু ইত্যাদি নেওয়া যায় কেবিন ব্যাগে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ১০০ মিলিলিটারের বেশি পরিমাপের অনুমতি পাওয়া যায় না। স্বচ্ছ জিপ-লক ব্যাগে রাখতে হয় এই প্রসাধনীগুলি।
৫. খাবার: শুকনো খাবার যেমন বিস্কুট, চানাচুর, কেক, এগুলি নিতে পারেন। শিশুখাদ্য নেওয়ারও অনুমতি মেলে।
কেবিন ব্যাগে যা নেওয়া যায় না
কেবিন ব্যাগে কী রাখা যায় না, বিমান যাত্রার আগে তা মাথায় রাখুন।
১. ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, ব্লেড, নেলকাটার, খুচরো পয়সা সহ যে কোনো ধারালো জিনিস কেবিন ব্যাগে নেওয়া যায় না। এগুলি চেক-ইন ব্যাগে রাখতে হয়।
২. দাহ্য বা বিস্ফোরক পদার্থ
লাইটার, দেশলাই বাক্স, পেট্রোল, আতশবাজি, স্প্রে পেইন্টস এগুলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. অস্ত্র বা অস্ত্রসদৃশ বস্তু
বন্দুক, গুলি অর্থাৎ আসল আগ্নেয়াস্ত্র নিষিদ্ধ। তবে খেলনা বন্দুকও অনেক সময় নিষিদ্ধ হয়। কারণ এগুলি দেখতে আসলের মতোই।
জরুরি পরামর্শ
• বিমান যাত্রার আগে নিজের এয়ারলাইনের ওয়েবসাইটে কেবিন ব্যাগের নানাবিধ নিয়ম দেখে নিন। আলাদা কিছু থাকলে সতর্ক হতে পারবেন।
• সন্দেহ হলে ধারালো বা বড়ো তরল জিনিস চেক-ইন ব্যাগে রাখুন। নিজের কাছে রাখবেন না।
• নিরাপত্তা চেকের সময় তাড়াহুড়ো না করে নির্দেশ মেনে চলুন।
• প্রথমবার বিমান সফর হলে তাড়াতাড়ি বিমানবন্দরে পৌঁছন।
শান্তনু দত্ত