বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুতে ভাসমান পিএম ২.৫-এর সংস্পর্শে থাকলে তা মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া, হরমোন এবং হৃদযন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বাতাসের সূক্ষ্ম ধূলিকণা রক্তপ্রবাহে মিশে শরীরের প্রদাহ বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। দূষণের ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও কর্টিজল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং পেটে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।
ফুসফুস রক্ষায় খাবার
পুষ্টিবিদরা এমন কিছু খাবারের কথা বলছেন যা আমাদের হাতের কাছেই থাকে এবং ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে:
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সব্জি
লাল শাক, পালং শাক, মেথি বা সর্ষে শাক: প্রতিদিন অন্তত এক বাটি রান্না করা শাক খান।
ভিটামিন-সি: প্রতিদিন আমলকী, কমলালেবু বা মুসাম্বি লেবু খান।
প্রদাহরোধী খাবার
হলুদ: প্রতিদিন ডাল বা দুধের সঙ্গে অর্ধেক থেকে এক চা-চামচ হলুদ খান।
আদা ও রসুন: প্রতিদিনের রান্নায় নিয়মিত ব্যবহার করুন আদা ও রসুনের মতো উপাদান।
গ্রিন টি: দিনে ১-২ কাপ গ্রিন টি খাদ্যগ্রহণের আধঘণ্টা পর অবশ্যই পান করুন।
ওমেগা-থ্রি: হার্টের পক্ষে উপযোগী ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড-এর জন্য সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন ইলিশ, রুই, কাতলা, মৃগেল বা পার্শের মতো বাংলার তৈলাক্ত মাছ খান। নিরামিষাশীরা ওমেগা থ্রি পাওয়ার জন্য খান তিসি, চিয়া সিড বা আখরোট।
ফুসফুসের সুরক্ষায় বাড়তি সংযোজন
তুলসী চা: ৮-১০টি পাতা জলে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে ওই জল পান করুন।
যষ্টিমধু: জলে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে ওই জল সপ্তাহে ২-৩ বার পান করুন।
গরম স্যুপ: সব্জির স্যুপ খান, খান চিকেন স্যুপ। এছাড়া মুগ ডালে সব্জি দিয়েও খেতে পারেন ডাল।
হরমোন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বীজ অবশ্যই কুমড়োর বীজ, তিল এবং সূর্যমুখীর বীজ খেতে পারেন।
সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হল শরীর রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। তবে প্রয়োজনে কিছু সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে, তবে তা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
দূষণ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়। কলকাতার বহু মানুষের শরীরেই ভিটামিন-ডি, বি-১২ এবং ওমেগা-৩-এর ঘাটতি থাকে। এই পুষ্টিগুণগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ফুসফুসের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই শুধু খাবার থেকে চাহিদা পূরণ না হলে, তবেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা জরুরি।
শরীরে ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সঠিক মাত্রা বজায় রাখলে তা দূষণজনিত ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।