Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বিয়ের পরে প্রতারণা কী করবেন?

বিয়ের পরে প্রতারণা কী করবেন?
  • ২৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঘটনা এক

Advertisement

বিয়ের আগে প্রায় ছ’বছরের বন্ধুত্ব ছিল অমলেন্দু এবং বিপাশার। দিল্লিতে বড় কোম্পানিতে চাকরি করেন অমলেন্দু, এমনটাই জানতেন বিপাশা ও তাঁর পরিবার। কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেল অমলেন্দুর স্ত্রী রয়েছেন দিল্লিতে। তাঁদের দাম্পত্য অটুট। সেই বিয়ের কথা সম্পূর্ণ লুকিয়ে বিপাশার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ে করেন। এভাবে ঠকে যেতে হবে ভাবেননি বিপাশা।

ঘটনা দুই

দুই পরিবারের গুরুজনদের দেখাশোনা ও আলোচনার ভিত্তিতে পলাশ এবং চন্দ্রিমার বিয়ে হয়। বিয়ের অব্যবহিত পরে পলাশ জানতে পারেন চন্দ্রিমা অন্তঃসত্ত্বা। দীর্ঘদিনের প্রেমিক সূর্যর সঙ্গে বিয়েতে রাজি ছিল না চন্দ্রিমার পরিবার। সেই প্রেমের সাক্ষী এখন চন্দ্রিমার গর্ভে। এই তথ্য জানতেন চন্দ্রিমার পরিবার। কিন্তু সম্পূর্ণ লুকিয়ে পলাশের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। মধুচন্দ্রিমা যে এত তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে, যা আজীবন ক্ষত হয়ে থাকবে, তা কল্পনাতেও ছিল না পলাশের।
বাস্তবে ঘটে যাওয়া এই দু’টি ঘটনাতেই (নাম পরিবর্তিত) সংশ্লিষ্ট পক্ষ আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। আইনের পথে বিবাহ পরবর্তী প্রতারণার সুরাহা খুঁজছেন তাঁরা। বিয়ের পর পুরুষ এবং মহিলা উভয় পক্ষই নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তার কী সমাধান রয়েছে, তা আলোচনা করলেন আইনজীবী মিন্টু চক্রবর্তী।

 দেখাশোনা বা প্রণয়ঘটিত বিবাহের ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় স্বামী অথবা স্ত্রী মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিবাহ করেছেন সেক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতারণাকে ফৌজদারি আইনের আওতায় আনা হয়। সেকশন ৮১ বি এন এস ২০২৩ অনুযায়ী, যদি কোনও পুরুষ বিধিপূর্ণ বিয়ে না করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে, প্রবঞ্চনা করে স্ত্রীয়ের সঙ্গে সহবাস করেন, তাহলে তা এই ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাবাস সঙ্গে জরিমানাও হতে পারে। 

 সেকশন ৮৩ বি এন এস ২০২৩ ধারায় কোনও পুরুষ প্রবঞ্চনা করার উদ্দেশ্যে কোনও মহিলাকে বিধিপূর্ণ বা আইনত বিবাহ না করলে তা আইনত অপরাধ বলে গণ্য হবে। প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাবাস এবং জরিমানা হতে পারে। 

 কোনও পুরুষ অথবা মহিলা প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যে বলে বিবাহ করলে এবং যদি দেখা যায় সেই বিবাহের ফলে অপরপক্ষের মান সম্মান, আর্থিক ও বৈষয়িক সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে তা আন্ডার সেকশন ৩১৮ বি এন এস ২০২৩-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

 কোনও পুরুষ অথবা মহিলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অপরপক্ষের বিরুদ্ধে তার সম্মানহানি করতে জনসমক্ষে লিখিত অথবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কুরুচিকর কোনও কিছু করলে তা আইনের চোখে অপরাধ। আন্ডার সেকশন ৩৫৬ সাবসেকশন ২ এবং ৩৫৬ সাবসেকশন ৩ বি এন এস ২০২৩-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। 

 যদি দেখা যায় বিবাহের সময় স্ত্রী অন্য পুরুষের মাধ্যমে গর্ভবতী, যদি দেখা যায় বিবাহ করার সম্মতি জবরদস্তি অথবা জালিয়াতির উপর ভিত্তি করে আদায় করা হয়েছে, তাহলে তা বাতিলযোগ্য বিবাহ হিসেবে ধরা হবে। এই মামলা আন্ডার সেকশন ২৫ স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৪-এর আওতায় আসবে। সেরকমভাবে দ্য হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫-এর ক্ষেত্রে আন্ডার সেকশন ১২, সাবসেকশন ওয়ান ক্লজ সি-এর ধারা অনুযায়ী এই বিবাহ বাতিলযোগ্য হিসেবে ধরা হবে। 

 সেকশন ৮২বি এন এস ২০২৩- অনুযায়ী স্বামী এবং স্ত্রী বিবাহিত থাকাকালীন অথবা তাঁর জীবদ্দশায় আরও একটি বিবাহ করেন, তাহলে তা এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের আওতায় আসবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর কারাবাস হতে পারে। সঙ্গে জরিমানাও হতে পারে।

 সেকশন ৮৯বি এন এস ২০২৩- অনুযায়ী যদি কোনও মহিলার সম্মতি ছাড়াই তার গর্ভপাত ঘটানো হয়, তাহলে তা এই আইনের ধারায় অপরাধের আওতায় পড়ে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা আজীবন কারাবাস এবং জরিমানাও হতে পারে।

 যদি দেখা যায় স্ত্রী মিথ্যে কথা বলে স্বামীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে, সেক্ষেত্রে স্বামী উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে সেকশন ৫২৮ বি এন এস এস ২০২৩-এর আওতায় মিথ্যে এফআইআর বাতিল করার জন্য মহামান্য হাই কোর্টের কাছে দরখাস্ত করতে পারেন। বর্তমানে দেখা গিয়েছে এরূপ বহু মিথ্যে মামলা সঠিক তথ্য ও প্রমাণ পেলে মহামান্য হাই কোর্ট এফআইআর বাতিল করে দিয়েছেন। 

আইনজীবীর মতে, বিবাহ পরবর্তী যে কোনও রকম প্রতারণার শিকার হলে স্থানীয় থানায় বিষয়টি লিখিত আকারে জানানো স্বামী, স্ত্রী উভয়েরই প্রাথমিক কর্তব্য। প্রয়োজনে পুলিসের কাছে যাওয়ার 
আগে আইনজীবীর পরামর্শ 
নিন। এতে কীভাবে লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করতে হবে, তা অভিযোগকারী সঠিকভাবে জানতে পারবেন। 
এর পরবর্তীতে 
প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ