পরামর্শে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি সার্জেন প্রফেসর ডক্টর দ্বৈপায়ন মুখোপাধ্যায়
পরামর্শে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি সার্জেন প্রফেসর ডক্টর দ্বৈপায়ন মুখোপাধ্যায়
গরমকাল আসতেই অনেকের মধ্যে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণত মানুষ মনে করেন শুধুমাত্র গরমের কারণেই এমনটা হচ্ছে, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে গরম শুধুমাত্র একটি অনুঘটক বা সহায়ক কারণ! নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পিছনে আরও গভীরে কিছু কারণ থাকতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসা: রক্ত বেরলে তৎক্ষণাৎ কী করবেন?
নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে বরং দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিন
* নাক চেপে ধরা: আঙুল দিয়ে নাকের সামনের অংশ শক্ত করে চেপে ধরুন।
* মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া: নাক বন্ধ থাকায় এই সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিন।
* মাথা নীচু রাখা: মাথা পেছনের দিকে না হেলিয়ে বরং সামনের দিকে কিছুটা নিচু করে অন্তত ৫ মিনিট বসে থাকুন।
* অল্প রক্তপাতের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতেই সাধারণত রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রধান কারণগুলি
বিভিন্ন বয়সে এই সমস্যার কারণ ভিন্ন হতে পারে:
* উচ্চ রক্তচাপ: বয়স্কদের ক্ষেত্রে গরমের কারণে বা অন্য কোনো উত্তেজনায় রক্তচাপ বেড়ে গেলে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
* নাক খোঁচাখুঁচি বা সেপটাল আলসার: শিশু বা বড়দের মধ্যে অনেকেরই নাকে আঙুল দেওয়ার অভ্যেস থাকে। এর ফলে নাকের ভেতরে এক ধরনের ক্ষত বা ‘সেপটাল আলসার’ তৈরি হয়, যা গরমে শুকিয়ে গিয়ে বা ইনফেকশন হয়ে রক্তপাত ঘটায়।
* ব্লাড থিনার: হার্ট বা প্রেশারের সমস্যার কারণে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের রক্ত একবার পড়া শুরু হলে সহজে বন্ধ হতে চায় না।
* অন্যান্য জটিলতা: নাকের টিউমার, সংক্রমিত পলিপ, ফাঙ্গাল ইনফেকশন এমনকি ম্যালিগন্যান্সি (ক্যান্সার)-এর কারণেও বারবার রক্তপাত হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন প্রয়োজন?
যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে বা সাধারণ ওষুধে রক্ত পড়া বন্ধ না হয় কিংবা বারবার হতে থাকে, তবে দেরি না করে ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যা করে থাকেন—
* নাকের এন্ডোস্কোপি: নাকের ভেতরের পরিস্থিতি বোঝার জন্য এটি করা হয়।
* এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান: রোগের ব্যাপ্তি কতটা তা জানার জন্য এই পরীক্ষাগুলো প্রয়োজন হতে পারে।
* অপারেশন: যদি টিউমার বা পলিপ ধরা পড়ে, তবে এন্ডোস্কোপিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: যদি প্রেশার বেশি থাকে, তবে দ্রুত তা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
* মলম ও ওষুধ: নাকের ক্ষতের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক মলম বা রক্ত বন্ধ করার ওষুধ দেওয়া হয়।
* ব্লাড থিনার ম্যানেজমেন্ট: যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকদিন তা বন্ধ রেখে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
* ন্যাজাল প্যাক: রক্তপাত খুব বেশি হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে নাকে ‘প্যাক’ দিয়ে রাখা হয়। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টা পর এই প্যাক খোলা হয় এবং রক্তপাতের উৎস নিশ্চিত করা হয়।
শেষ কথা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাকে সাধারণ ইনফেকশন, ঘা বা উচ্চ রক্তচাপ থেকেই এই সমস্যা হয় যা সঠিক চিকিৎসায় দ্রুত সেরে যায়। তবে বিষয়টিকে অবহেলা না করে সঠিক কারণটি শনাক্ত করা জরুরি। গ্রীষ্মের গরমে সুস্থ থাকতে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং অযথা নাকে খোঁচাখুঁচি করা থেকে বিরত থাকুন।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক