মাত্র দু’মাসে চুলের সার্বিক যত্নে কী করবেন?
মাত্র দু’মাসে চুলের সার্বিক যত্নে কী করবেন?
• পরীক্ষার বাকি দু’মাস। থুড়ি পুজোর। তা একরকম পরীক্ষাই বটে। বেছে বেছে সেরা পোশাক কিনতে হবে। মেকআপ করতে হবে মানানসই। তবেই তো প্যান্ডেলে মা দুগ্গার পরে আলাদা করে নজরে পড়বেন আপনি। বাঙালি এই সুযোগ একেবারে মিস করতে নারাজ। সবই তো হল, কিন্তু হেয়ারস্টাইল? স্টাইল করার আগে যত্ন জরুরি। চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হলে কোনও স্টাইলই মানাবে না। তাই যত্নের খুঁটিনাটি শুরু করুন আজ থেকেই। দূষণের ফলে এখন প্রায় সকলেরই চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তা থেকে রেহাই পেতে যত্ন প্রয়োজন। সেই পথ আপনাকে দেখাবেন বিশেষজ্ঞই। দু’মাসের মধ্যে নিজেকে তৈরি করতে কীভাবে যত্ন নেবেন, তার পরামর্শ দিলেন ফিউজ স্যালোঁ অ্যান্ড অ্যাকাডেমির কর্ণধার হেয়ার এক্সপার্ট অভিরূপ নন্দী।
যত্নের চারটি ধাপ রয়েছে। মুখের আকার অনুযায়ী মানানসই হেয়ার কাট প্রয়োজন। এরপর আসবে চুলে রং করানোর পালা। স্পা-এর মতো পেশাদার ট্রিটমেন্ট হল তৃতীয় ধাপ। একেবারে শেষে আসবে চুলের গঠন অনুযায়ী স্মুদনিং, কেরাটিন-এর মতো টোটকা। কিন্তু কোনটা আপনার প্রয়োজন, তা একজন বিশেষজ্ঞই বলতে পারবেন।
রকমারি যত্ন
দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় অভিরূপ দেখেছেন, বেশিরভাগ মানুষ জানেন না, চুলের স্বাস্থ্য অনুযায়ী কোন শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একই শ্যাম্পু চুল এবং স্ক্যাল্পে ব্যবহার করেন। কিন্তু চুল এবং মাথার তালুর সমস্যা অনুযায়ী শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। ‘ধরুন, কারও খুশকির সমস্যা রয়েছে। তিনি কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন, সেটা বিশেষজ্ঞ বলে দেবেন। এখানে টেকনিক্যাল একটা ব্যাপার রয়েছে। যে শ্যাম্পু তালুতে লাগাবেন, তার ফেনা যেন নীচের দিকে নেমে না আসে। সেটা ধুয়ে ফেলার পর চুলের শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এরপর আঙুলের ডগায় লাগিয়ে চুলের নীচের দিকে ব্যবহার করুন কন্ডিশনার’, বুঝিয়ে বললেন অভিরূপ। এই অভ্যাস আজ থেকেই শুরু করা জরুরি। চুলের ডিপ কন্ডিশনিং করাতেই হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অভিরূপের কথায়, ‘আবহাওয়ার সঙ্গে চুলের সমস্যার ধরন বদলে যায়। সাধারণভাবে বলা যায়, কোনও অবস্থাতেই ভিজে চুল ছেড়ে দেবেন না। ওয়াশ করার পর সেরাম লাগিয়ে ড্রাই করে নিন। প্রথমে হিট দিন। তারপর হিট কমিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ৩০-৪০ দিন অন্তর একটা হেয়ার স্পা নিন। এতে ঘন কন্ডিশনিং হয়। চুল পুষ্টি পায়। এখন থেকে হিসেব করলে পুজোর আগে অন্তত দু’টো স্পা আপনি করতে পারবেন।’
হেয়ার কাট
পুজোর সময় বলে আলাদা নয়, সারা বছরের যে কোনও সময়ই হেয়ার কাট সঠিক হওয়া জরুরি। অভিরূপ বললেন, ‘সঠিক হেয়ার কাটের মাধ্যমে মুখকে নানাভাবে ফ্রেম করা যায়। যেমন কপাল চওড়া হলে সাইড ফ্রিঞ্জ অথবা কার্টেন ব্যাংস ট্রাই করতে পারেন। তাতে কপালের চওড়া অংশটা খানিক চুল দিয়ে ঢেকে দেওয়া সম্ভব। হেয়ার কাট আসলে জ্যামিতিক বিষয়। ফ্রেমিংয়ের সময় সেটা আমরা বুঝতে পারি। এমন ভাবে কাটতে হবে, যাতে চুল খোলা রাখলে কোথাও লম্বা, কোথাও ছোট, কোথাও কম, কোথাও বেশি না মনে হয়।’ কারও মুখে লেয়ার মানানসই হলে তার ব্যক্তিত্ব সুন্দর ভাবে ধরা পড়বে। ফ্রিঞ্জ, বাটারফ্লাই ব্যাঙ্গসও মুখের গড়ন বদলে দেয়। ‘কেমন ধরনের চুল সেটা দেখে কাটতে হবে। কোঁকড়া, সমান, ছোট, বড় চুল এবং মুখ বুঝে কাটতে হবে। কাটতে হবে চুলের ধরন বুঝেও। সব মুখে সব ধরনের কাটিং মানাবে না। খুব ভালো কালার, স্মুদনিং করলেও ভালো হেয়ার কাট না হলে লুকের মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য থাকবে না,’ বললেন অভিরূপ।
হেয়ার কালার
পুজোর আগে চুলে কোন ধরনের রং করবেন, এবারে ট্রেন্ডে কী রয়েছে, তা জেনে নিন। অভিরূপের পরামর্শ, ভারতীয় ত্বকে সবথেকে বেশি ভালো লাগে ব্রাউন, হালকা ব্লন্ডস, অথবা লাল। ব্লু, গ্রিন-এর মতো ফাঙ্কি রং অনেকে ব্যবহার করেন। কিন্তু সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ব্রাউন, ব্লন্ড, লালের অনেক শেড হয়। ত্বক ও চুলের ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন কোন রং করা উচিত। তিনি বলেন, ‘রং করার বিভিন্ন ধরন আছে। এখন বালেয়াজ খুব চলছে। এবার পুজোয় এটা ভালো চলবে। এটা ফ্রেঞ্চ টেকনিক। চুলের মধ্যে থেকে প্যানেল বের করে আমরা রং দিয়ে স্কেচ করি। খুব ন্যাচারাল দেখতে লাগে। মুখের সামনে রঙের স্ট্রং প্যানেল না দিয়ে পিছনের দিকে ব্যবহার করি। আর মুখের সামনে হালকা রং ব্যবহার করি। ভুল রং হলে সেটা কিন্তু সাজের সঙ্গে মানায় না। চুল ঘন হলে বালেয়াজ করানোর পরামর্শ দেব। কিন্তু কারও চুল খুব পাতলা হলে অথবা স্ট্রেট চুল হলে হাইলাইটস করতে বলব। চুলের পাতলা বিষয়টা হাইলাইটের মাধ্যমে ভলিউম দেওয়া যাবে। এটা কালারে করা সম্ভব নয়।’
মুখ অনুযায়ী কোন জায়গায় কতটা রং কীভাবে দেওয়া হবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অভিরূপ বলেন, ‘পুজোর কথা মাথায় রেখে বলছি হানি ব্লন্ড, হালকা ব্রাউন করা যায়। অনেক দিন পর্যন্ত এসব রং চুলে ধরে রাখা যায়। হালকা রং চাইলে অ্যাশ ব্লন্ড, পার্ল অ্যাশ ব্লন্ড করতে পারেন। মনে রাখবেন, চুলে হালকা রং করলে বেশি যত্ন করতে হবে। নাহলে রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
স্মুদনিং, কেরাটিন
চুলের সমস্যা অনুযায়ী এই দুটো ট্রিটমেন্ট করা হয়। পুজোর আগে অবশ্যই চুলের সার্বিক যত্নে এগুলো অ্যাপ্লাই করতে পারেন। কিন্তু কোনটা করাবেন, সেটা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন না। কারও চুল বেশি কোঁকড়া। চুল স্ট্রেট হয়ে যাক, তাঁরা চান না। অভিরূপের পরামর্শ, চুল স্বাস্থ্যকর দেখাতে চাইলে কেরাটিন করান। চুল স্ট্রেট করলে অনেক সময় ঘনত্ব কমে যায়। কেরাটিন আসলে চুলের ল্যামিনেশন। এটা প্রোটিনের কোটিং। চুল থেকে যে প্রোটিন বেরিয়ে গিয়েছে, সেটা কেরাটিনের মাধ্যমে ফের ফিরে পাওয়া যায়। ব্লো ড্রাই করালে যেমন উজ্জ্বল হয়, সেই এফেক্ট পাওয়া যায় কেরাটিনে। স্মুদনিংয়েও চুলের স্বাস্থ্য ভালো হবে। কিন্তু চুল স্ট্রেট হয়ে যাবে।
পুজোর প্ল্যানিং
• হাতে রয়েছে দু’মাস। আপনার সমস্যা অনুযায়ী সমাধান পেতে প্রথমেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
• চুলের দৈর্ঘ্য ছোট হোক বা বড়, দু’টো হেয়ার স্পা করান।
• সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ার কাট করান।
• চুলে রং করানোর সঙ্গে সঙ্গে কেরাটিন করলে সঠিক ল্যামিনেশন হবে, ভালো থাকবে চুল।
• স্মুদনিং করার পর অন্তত এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে রং করান।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য