Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

ক্রেশে দেওয়ার আগে কী কী নজর রাখবেন?

ব্যস্ত সময়ে  এখন অনেক  মা-বাবারই ভরসা ক্রেশ বা চাইল্ড কেয়ার। কিন্তু কোন ক্রেশ আপনার শিশুর জন্য আদর্শ?

ক্রেশে দেওয়ার আগে কী কী নজর রাখবেন?
  • ২৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্যস্ত সময়ে  এখন অনেক  মা-বাবারই ভরসা ক্রেশ বা চাইল্ড কেয়ার। কিন্তু কোন ক্রেশ আপনার শিশুর জন্য আদর্শ?

Advertisement

ডে কেয়ার বা চাইল্ড কেয়ার বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় হয়েছে আমাদের দেশে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একালের বাবা-মায়ের ব্যস্ততা বেড়েছে। ছোট পরিবারই এখনকার বাস্তব। তাই আয়া বা পরিচারিকার সঙ্গে বাচ্চাকে একলা রাখার কথা অনেকেই ভাবতে পারেন না। সিসিটিভি বসিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারেন মা-বাবা। কর্মস্থলে তাঁদের সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ায় উৎকণ্ঠা। অনেকে ভরসাযোগ্য গৃহসহায়িকা হয়তো পেয়ে যান। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয় না। সেই ভাবনা থেকেই জনপ্রিয় হয়েছে বাচ্চাকে ক্রেশ বা ডে কেয়ারে রাখা। 
ক্রেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা অনেক বাচ্চাকে একসঙ্গে রাখা হয়। ফলে শিশুদের নিরাপত্তার দিকটি সুনিশ্চিত করেই ক্রেশের দরজা খোলা হয় নতুন মা-বাবার কাছে। একেবারে ছ’মাসের শিশু থেকে মোটামুটি বছর দশেক পর্যন্ত বাচ্চাদের রাখা হয় এখানে। ক্রেশ অনুযায়ী বয়সের নিয়মভেদ থাকে। অনেক সময় বাচ্চার স্কুলের সঙ্গেই ক্রেশের ব্যবস্থা করা থাকছে। অর্থাৎ যে বয়স থেকে বাচ্চা স্কুল যাওয়া শুরু করল, তার পরের সময়টা নিয়েও মা বাবা যাতে নিশ্চিন্ত হতে পারেন, তার জন্য অনেক স্কুল আজকাল ক্রেশের ব্যবস্থা করছে। অনেক মহিলা নিজের কর্মস্থলের মধ্যেও ক্রেশ পাচ্ছেন। তবে এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে এখনও অনেকটাই কম। এই ব্যবস্থা যত জনপ্রিয় হবে, ততই চিন্তা কমবে নতুন মায়েদের। কারণ কাজের ফাঁকেই তাঁরা গিয়ে বাচ্চাকে দেখে আসতে পারেন। তার প্রয়োজনমতো পদক্ষেপ করতে পারেন।

তবে যে কোনও ক্রেশে বাচ্চাকে দেওয়ার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। 

 প্রথমত, নতুন মা-বাবা যে এলাকায় থাকেন, তার থেকে খুব বেশি দূরের ক্রেশ বাছবেন না। বাচ্চাকে আনা-নেওয়া করা সেক্ষেত্রে অনেকটা সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়। বাচ্চার এমনিতেই ধৈর্য থাকে না। তাই এক জায়গা থেকে তাকে যখন বাড়ি পৌঁছনোর জন্য নিয়ে যাওয়া হবে, সে অনেক বেশি ঘ্যানঘ্যান করতে পারে। 

 যে ক্রেশে আপনার হৃদয়ের টুকরোকে রাখবেন, সেখানকার ফিডব্যাক অবশ্যই ভালো করে খতিয়ে জেনে নিন। কারণ বাড়ির কাছে ক্রেশ খুঁজতে গিয়ে আবার যেমন-তেমন জায়গায় শিশুকে রেখে আসার ঝুঁকি কখনওই নেবেন না। ক্রেশ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন কি না, দেখে নিতে হবে সেটাও। কারণ এর সঙ্গে আপনার সন্তানের ভালোমন্দ জড়িয়ে আছে। 

 বাচ্চার যখন-তখন শরীর খারাপ হতে পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক ক্রেশ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে। বাচ্চা হঠাৎ কোনও অসুস্থতা দেখা দিলে ক্রেশ থেকে মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ তো করা হবেই। কিন্তু তার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিষেবা সঠিকভাবে ক্রেশে আছে কি না, ভালো করে জেনে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় ক্রেশের নিজস্ব দু’তিন পেডিয়াট্রিশিয়ান থাকলে।

 ক্রেশ চালানোর অনেকরকম নিয়ম আছে। এক এক বয়সের বাচ্চার জন্য এক এক ধরনের যত্ন প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে চাইল্ড কেয়ারে যথেষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী না থাকলে চলবে না। হয়তো শিশুকালে যতটা ভালো যত্ন নিল কোনও ক্রেশ, বাচ্চা একটু বড় হতে, যেমন চার-পাঁচ বছরের হয়ে গেলে, আর সেভাবে খেয়াল রাখা হল না। সেক্ষেত্রে আপনাকে ক্রেশ পাল্টাতে হবে। কারণ এই সময় থেকে বাচ্চার এক এক স্কিল গড়ে ওঠে। সেই প্রশিক্ষণ ঠিকমতো না পেলে বা তাকে যত্নে করে সঙ্গ না দেওয়া হলে বাচ্চার ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। 
 যে কোনও ডে কেয়ার বা ক্রেশ বেছে নিতে প্রয়োজনে সেখানকার দক্ষ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে নিন। তাতেই মা বাবা হিসেবে আপনারা বুঝতে পারবেন, সেই কর্মী বা কর্মীদের পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে কি না।
শুধু বাচ্চা সামলানোর জ্ঞান নয়, আপনার শিশু অনেকটা সময় ওদের কাছে কাটাবে ধরে নিয়ে কর্মীদের আচরণ কেমন সেটাও খেয়াল করুন। কারণ শিশু ওদের কাছ থেকে এমন কোনও কথা বা আচরণ যেন না শেখে যাতে তার ভবিষ্যতে বেড়ে ওঠা বাধা পায়। শিশু একটু বড় হলেও গুরুজনদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে, সময়বয়সিদের সঙ্গে কীভাবে মিশবে এই সবই এই আচরণগত ক্ষেত্রের মধ্যে পড়বে। 

 প্রতিটি বাচ্চার চাই আলাদা যত্ন। ক্রেশে অনেক বাচ্চা থাকায় একদিকে যেমন সুবিধা, তেমন অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলেন কর্মীরা। একটি বাচ্চাকে সামলাতে গিয়ে অন্য বাচ্চা যেন অবহেলিত না হয় সেটাও দেখতে হবে। এক একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর উপর ক’জন শিশুর ভার ন্যস্ত রয়েছে, সেটাও জেনে নেবেন খুঁটিয়ে। কারণ বেশি বাচ্চা একজনের দায়িত্বে থাকলে তিনি সঠিক পরিচর্যা কখনওই দিতে পারবেন না। এছাড়া এই ধরনের কেয়ার-গিভার হিসেবে যিনি থাকছেন, তাঁর সঙ্গে বাচ্চার রসায়ন কেমন, খেয়াল রাখতে হবে তা-ও। এব্যাপারে মা বাবাকে সক্রিয় হতে হবে। যদি বাবা-মা কেয়ার গিভার-এর সঙ্গে ভালোভাবে না মেশেন, তাহলে বাচ্চা কখনও তাঁকে আপন বলে মনে করতে শিখবে না। তাঁর কথাও শুনবে না। 

 এক্ষেত্রে বিশদে যেটা বোঝার, বাচ্চা প্রথমে যখন স্কুলে যায়, মেনে নিতে পারে না। অনেক বাচ্চাই রোজ কাঁদে। অনেক বাচ্চার মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়। ক্রেশে শিশু যাচ্ছে আরও ছোট বয়সে। তাই প্রথমেই যদি শিশু সেখানে থাকতে না চায় বা কাঁদে, বায়না করে তাহলে সেখানে মা বাবাকে আরও একটু সময় দিতে হবে। কাজের ব্যবস্থা থাকলেও প্রথম কিছু দিন বাচ্চা যাতে ক্রেশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তার জন্য ওর সঙ্গে ক্রেশে কিছুক্ষণ থাকুন। আবার বাকি সময়টা ওকে ক্রেশের কেয়ার গিভারদের কাছে রাখুন। কেয়ার গিভারদের সঙ্গে মা বাবা যত কথা বলবেন, বাচ্চার ততই মিশতে সুবিধা হবে। 

 ক্রেশেও কিন্তু পড়াশোনা হয়। বাচ্চা একটু বড় হলে সেই বাচ্চাকে স্কুলের পড়া বা কাজ ইত্যাদিও শেখাতে হয়। স্কুলের সঙ্গে না মিললে ক্রেশে ভিন্ন ধরনের শিক্ষা দেওয়া হলে বাচ্চা সব গুলিয়ে ফেলবে। তাই এটা ক্রেশে দেওয়ার পরেও খেয়াল রাখতে হবে, যে ক্রেশে কীভাবে পড়াশোনা বা অন্য কোন অ্যাক্টিভিটি শেখানো হচ্ছে। 
অন্বেষা দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ