Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

কোর্ট সংবিধান সংশোধন করলে আইনসভার দরকার কী?

কোর্ট সংবিধান সংশোধন করলে আইনসভার দরকার কী?
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: আইনসভায় পাশ হওয়া বিল রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল  অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখতে পারেন না বলে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বেঁধে দিয়েছে সময়সীমা। শীর্ষ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুঙ্গে। রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল। প্রবীণ এই আইনজীবীর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যপালদের ভূমিকা স্পষ্ট করে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য তা ভালো। যদিও শীর্ষ আদালতের এই রায়ে অতিসক্রিয়তা দেখছেন কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর। তাঁর দাবি, রাজ্যপালদের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা সংবিধানে নিহিত নেই।

Advertisement

শনিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে সিবাল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। বিজেপি (কেন্দ্রে) ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যপালরা একতরফা কাজ করছিলেন। বিল পাশ হয়ে রাজ্যপালের সইয়ের জন্য যাওয়ার পর তিনি তা অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেলে রাখছিলেন। তিনি সই না করায় নয়া আইন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাচ্ছিল না। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছিল। যে রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের শাসকদল ব্যতিত অন্য কোনও দল ক্ষমতায়, সেখানেই এসব হচ্ছে। তাই গোটা বিষয়টাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সিবাল স্বাগত জনোলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন কেরলের রাজ্যপাল আরলেকর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের যে বিচারপতিরা এই মামলাটি শুনেছেন, তাঁদের বিষয়টিকে সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো উচিত ছিল। এইভাবে সময়সীমা বাঁধতে গেলে তার জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। আদালত যদি সংবিধান সংশোধনের কাজ করে তাহলে সংসদ বা আইনসভা রাখার প্রয়োজন কী? আদালত যদি সুনির্দিষ্ট কারণবশত বছরের পর বছর মামলা ঝুলিয়ে রাখতে পারে, তাহলে রাজ্যপালের ক্ষেত্রেও হয়তো একটি বিল নিয়ে সময় নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে।
যে রাজ্যের করা মামলার ভিত্তিতে এই রায়, সেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ভারতের সব রাজ্যের জন্য এটা বড় জয়। তামিলনাড়ু সরকারের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়েছিলেন ডিএমকের রাজ্যসভার সদস্য পি উইলসন। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে হাতিয়ার করেই রাজ্যপালের সই ছাড়া ঝুলে থাকা ১০টি বিলকে আইনের স্বীকৃতি দিয়ে এদিন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তামিলনাড়ু সরকার। এপ্রসঙ্গে উইলসন সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কারণে ইতিহাস তৈরি হল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ