নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনেই কার্তিক পুজো। তার আগে কুমোরটুলিজুড়ে বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে দেখা গেল নানা কার্তিকের সমাহার। সেই তালিকায় আছে পাগড়ি কার্তিক, নায়ক কার্তিক, বাবু কার্তিক, জমিদার কার্তিক, রাজ কার্তিক, অভিনেতা কার্তিক, টারজান কার্তিক প্রভৃতি। এরমধ্যে এবার জমিদার ও বাবু কার্তিকের চাহিদাই বেশি। বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে বেশ কিছু উৎসাহী মানুষ ঘুরে ঘুরে দেখছেন বিচিত্র কার্তিকের সমাহার। কেউ কেউ আবার তাঁর পছন্দ মতো সেই কার্তিক মূর্তি মুঠো ফোনে ছবি তুলে রাখছেন। কুমোরটুলি স্ট্রিটে শিল্পী রাজা পালের ঘরে বিভিন্ন সাইজের কার্তিক মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন তাঁর কারিগররা। স্বপন দাস ও সজল পাল নামে দুই যুবক হঠাৎ ঢুকে ওই শিল্পীকে জিজ্ঞাসা করলেন এই কার্তিকের নাম কী? ওই কার্তিকের নাম কী? একসময় বিরক্ত হয়ে ওই শিল্পী বলে ওঠেন, ‘কাজ করতে দেবেন না, সারাদিন ধরে নাম বলব? এরপর আর কথা না বাড়িয়ে ওই দুই যুবক সঠান থেকে অন্যত্র চলে যান।’ একই দৃশ্য দেখা যায় রবীন্দ্র সরণি, বনমালি সরকার স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে। সেখানেও মানিকতলা বাগমারি থেকে কার্তিক ঠাকুর কিনতে আসা শ্রেয়া মুখোপাধ্যায় নামে এক গৃহবধূ শিল্পী সমর পালকে জিজ্ঞাসা করেন বাবু ও রাজা কার্তিকের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? শিল্পী দু’টি কার্তিক ঠাকুর দেখিয়ে তার পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। দেখা যায়, দরদাম করে ওই গৃহবধূ ১৬০০ টাকায় একটি বাবু কার্তিক কিনতে। ওই শিল্পীর ঘরে থাকা কারিগররা কাগজ দিয়ে সেই ঠাকুরের মুখ বেঁধে দিতে। শিল্পী প্রশান্ত পাল বলেন, ‘গত বছর ১৩টি কার্তিকের বরাত পেয়েছিলাম। এবার ছোটো, বড়ো মিলিয়ে ১৮টি কার্তিকের বরাত পেয়েছি। তার মধ্যে বাবু কার্তিকের বরাত বেশি।’



