নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনের সম্প্রসারণ বা আধুনিকীকরণের কোনও পরিকল্পনা রেলের আছে কি না এবং থাকলে সেই পরিকল্পনায় যাত্রী সুবিধা, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এসব অন্তর্ভুক্ত আছে কি না তা সংসদে জানতে চাইলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। জুনের প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী যা জানিয়েছেন তাতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে একপ্রস্থ তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, রেলমন্ত্রী একাধিক পরিকল্পনার কথা জানালেও বাস্তবে তার একটিও রূপায়িত হবে না। রেলের প্রধান সমস্যা স্টেশনে সময়মতো ট্রেন না আসা। সেই সমস্যারই কোনও সমাধান করতে পারছে না তারা। আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এসব বিজেপির গেমপ্ল্যান। অপরদিকে বিজেপির নেতাদের কথায়, গত কয়েক বছরে রেল উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। একাধিক জনমুখী কাজের সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যা চোখে পড়ছে না তৃণমূল নেতাদের।
সংসদে জুনের প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্টেশনগুলিতে উন্নয়নের কাজ হবে। মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সেগুলি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্টেশনগুলিতে প্রয়োজন অনুসারে ‘স্টেশন অ্যাক্সেস’, সঞ্চালন এলাকা, অপেক্ষার হল, টয়লেট, প্রয়োজনে লিফট বা এসকালেটর সহ একাধিক জিনিস তৈরি হবে ও হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে ১৩৩৭টি স্টেশন স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে ১০১টি স্টেশন পশ্চিমবঙ্গের। এছাড়া পূর্ব রেলওয়ে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে এবং মেট্রো রেলওয়ের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিন জুন মালিয়া বলেন, রেলের কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। খড়গপুর রেল স্টেশনে নানা কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব কবে হবে কেউ জানে না। সুযোগ পেলে সংসদে এই প্রশ্ন বার বার তুলব। সাধারণ মানুষের পাশে সর্বদা আছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও নির্বাচন এলেই রেলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিজেপি। রেলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ভোটের প্রচারে তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেও ফের রেলকে তুলে ধরবে গেরুয়া শিবির। কিন্তু রেলের বিভিন্ন সমস্যার দিক তৃণমূল সাংসদ বারংবার তুলে ধরায় বেশ অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। তাই জুন মালিয়ার প্রশ্নের পর দ্রুত উত্তর দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, খড়গপুর স্টেশনের উন্নয়ন নিয়ে যেভাবে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, সেভাবে কাজ হয়নি। অনেক স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও, মাঝপথে থমকে রয়েছে। সবার আগে সময়মতো ট্রেন না আসার সমস্যার সমাধান করা হোক। একদিনও ট্রেন সময়মতো আসে না। ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যটন ব্যবসাও যার জন্য মার খাচ্ছে। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, বিজেপি যা বলে তা করে না। এতে নতুন কী। আমাদের সাংসদ খুব ভালো প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, সংসদে নিজেকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার জন্য এসব কথা বলছেন সাংসদ। সাংসদ নিজে গাড়ি অথবা প্লেনে যাতায়াত করেন, উনি রেলের উন্নয়ন সম্পর্কে জানবেন কী করে।