চণ্ডীগড়: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। যুদ্ধের আশঙ্কা দানা বাঁধছে। ইতিমধ্যেই পাক নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে দ্রুত দেশ ছাড়তে বলেছে ভারত। এর জেরে আটারি সীমান্তে শুধুই বিষন্নতা। কোথাও মায়ের কোল ছেড়ে ফিরতে হচ্ছে সন্তানকে। কোথাও বা স্বামী-সংসার ছেড়ে স্ত্রীকে ফিরে যেতে হচ্ছে পাকিস্তানে। মঙ্গলবারও এমনই পরিজন বিচ্ছেদের কান্না, বেদনা আর অসহায়তার সাক্ষী থাকল আটারি সীমান্ত।
আগেই সাধারণ ভিসা বাতিল হয়েছে। মঙ্গলবার মেডিকেল ভিসারও বৈধতা শেষ। আর কোনও উপায় নেই। এজন্য ভারত ছাড়তে হচ্ছে পাকিস্তানি নাগরিকদের। যেমন সামরিন। কান্না ভেজা চোখে তিনি বলছেন, ৪৫ দিনের ভিসায় গত সেপ্টেম্বরে ভারতে এসেছিলাম। তারপর বিয়ে হয়েছে। হঠাৎ করে ভারত ছাড়তে বলা হচ্ছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের জেরা করা হোক। প্রশ্ন করা হোক। আমাদের কী দোষ? আমরা কেন শাস্তি পাচ্ছি?
বিয়ের ১০ বছর পরও স্বামীকে ছেড়ে পাকিস্তান ফিরে যেতে হচ্ছে করাচির মেয়ে ইরামকে। রেখে যাচ্ছেন আট বছরের ছেলেকে। কাঁদতে কাঁদতে ইরামের বক্তব্য, আমার পরিবারটা শেষ হয়ে গেল। জোর করে পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে। স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে ওখানে থাকব কী করে?
বছর তিনেক আগে উত্তরপ্রদেশের আমিরের সঙ্গে বিয়ে হয় ইসলামাবাদের মেয়ে মারিয়ামের। বর্তমানে তিনি তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা। নির্দেশিকার চাপে তাঁকেও ফিরতে হচেছ নিজের দেশে। ‘নিজের দেশ-ঘর ছেড়ে এখানে এসেছি। এখন এটাই আমার দেশ। আমার বর এখানে থাকে। এটাই আমার ঘর। আমি ফিরতে চাই না। এখানেই থাকতে চাই।’ কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন মারিয়াম।