দিল্লি থেকে কলকাতা কিংবা যে কোনও শহর, মফস্সল বা জনবহুল এলাকা— দূষণ থেকে রেহাই নেই! উৎসবের মরশুম পেরিয়ে শীতের সময় তা আরও ভয়াবহ আকার নেয়। দূষণের জেরে অ্যাজমা, সিওপিডি সহ শ্বাসযন্ত্রের নানা রোগ আরও জাঁকিয়ে বসে। তাই দূষণ থেকে বাঁচতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এনিয়েই পরামর্শ দিলেন দিল্লির সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের প্রাক্তন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ডঃ দীপঙ্কর সাহা এবং বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডাঃ সুস্মিতা রায়চৌধুরী।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি
বাইরে থেকে এসে নিয়মিত হাত ও মুখ ধুতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখুন। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে। দূষণজনিত নানা ধরনের অ্যালার্জির হাত থেকে বাঁচতে নিতে হবেপ্রয়োজনীয় যত্ন।
মাস্কের ব্যবহার
বাইরে বেরলে মাস্ক ব্যবহার জরুরি। এক্ষেত্রে এন৯৫ মাস্ক বা সার্জিক্যাল মাস্ক পরা যেতে পারে।
বাইরের কার্যকলাপ এড়িয়ে যান
এলাকায় বাতাসের গুণগত মান খারাপ থাকলে বাইরের কাজকর্ম এড়িয়ে যাওয়া ভালো। প্রয়োজন না থাকলে বেরনো উচিত নয়। বিশেষ করে ভোরের দিকে ও সন্ধ্যায় ঘরে থাকাই ভালো। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সকালে হাঁটা, পার্কে ব্যায়াম এগুলিও এড়িয়ে চলুন।
দূষণ পরিস্থিতি ট্র্যাক করুন
ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোনের কৃপায় এই সমস্ত তথ্য এখন হাতের মুঠোয়। বাতাসের এ কিউ আই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) দেখে নিন।নিজের এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
অন্দরের দূষণ প্রতিরোধ
বদ্ধ ঘর থেকেও দূষেণর জাল ছড়াতে পারে। এক্ষেত্রে বদ্ধ ঘরে ধূমপান, অতিরিক্ত ধূপ-ধুনোর ব্যবহারে রাশ টানতে হবে। রান্নাঘর, বাথরুমে এগজস্ট ফ্যান, চিমনি থাকা আবশ্যিক। এগুলি সময়ে সময়ে পরিষ্কার করতে হবে। আসবাবপত্র সহ ঘরের ধুলোফাঁদও পরিষ্কার করতে হবে। দিনে একটা নির্দিষ্ট সময়ে জানালা-দরজা কিছুক্ষণ খোলা রাখুন। এয়ার পিউরিফায়ারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইনডোর গার্ডেন
বাড়ির ব্যালকনি, জানালায় গাছ লাগানো যেতে পারে। বাড়িতে সবুজ থাকলে সুস্থ ও সতেজ থাকবেন।দূষণের হাত থেকে বাঁচবেন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
এইসময় দূষণে সৃষ্ট রোগ থেকে বাঁচতে মরশুমি শাকসবজি, ফল খেতে হবে। ভিটামিন সি, ই, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
শ্বাসযন্ত্র ভালো রাখতে হবে
শ্বাসযন্ত্র ভালো রাখতে সঠিক খাওয়া-দাওয়া, পর্যাপ্ত জলপানের পাশাপাশি প্রতিদিন ন্যূনতম আধঘণ্টা করে হাঁটতে হবে।
বয়স্ক ও খুদেদের বিশেষ যত্ন
পরিবারে বয়স্ক কোনও মানুষ থাকলে বা খুদে সদস্য থাকলে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। তাঁদের বাইরে বেরনো, ডায়েট থেকে শুরু করে সমস্তকিছুতে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
আবর্জনা সঠিক স্থানে ফেলতে হবে। বাড়ির আশপাশে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা যাবে না। প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার কমাতে হবে। নিজের এলাকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। ---- লিখেছেন শোভন চন্দ