পরামর্শে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হিমাদ্রি দত্ত ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জয়দীপ ঘোষ।
পরামর্শে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হিমাদ্রি দত্ত ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জয়দীপ ঘোষ।
নেইমার, মেসি, এমবাপে, সিআর৭! স্বপ্নের কারিগরদের অভাব নেই। আর অভাব নেই বাঙালির ফুটবলপ্রেমের। মেসি-রোনাল্ডোর স্বর্গীয় ফর্ম থেকে ভিনিসিয়াসের অবিশ্বাস্য কর্নার বা এমবাপের বুলেটের মতো গোল। হাসিমুখে বাঙালিকে রাত জাগিয়ে রাখার জন্য এই-ই যথেষ্ট। ৪৮ দেশের এই টানটান লড়াই দেখার যে আমেজ, তা এক ইঞ্চি ছাড়তে রাজি নয় ফুটবলপ্রেমীরা। এবার সিংহভাগ ম্যাচই ভারতীয় ঘড়ি অনুসারে বেশ গভীর রাত বা কাকভোরের দিকে। বেশিরভাগ মানুষই খেলা দেখছেন মোবাইলের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে বা টেলিভিশনে। রাত জেগে অন্ধকার ঘরে মোবাইল বা টিভিতে খেলা দেখতে গিয়ে চোখ ও শরীরের উপর কুপ্রভাব পড়ছে।
চোখের কী ক্ষতি
অন্ধকারে বসে মোবাইল বা টিভিতে খেলা দেখলে মনিটরের উজ্জ্বল আলো চোখের মণি বা পিউপিলকে প্রসারিত করে। চোখের উপর চাপ পড়ে। ফলে চোখ জ্বালা করা, জল পড়া এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ বা নীল আলো ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের ক্ষরণও কমিয়ে দেয়। এই হরমোনের প্রভাবে ঘুম আসে। টিভির ব্লু লাইটের ক্ষরণ কমিয়ে দেওয়ার ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। একটানা স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়ায় ড্রাই আইজের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চোখের স্নায়ুতে চাপ বেড়ে গিয়ে মাথা যন্ত্রণাও হতে পারে। তাহলে কি খেলা দেখব না? চার বছর অন্তর আসা এই মহাযজ্ঞে অংশ না নেওয়াটাই বোকামি। আগ্রহ থাকলে খেলা দেখুন, শুধু মেনে চলুন কিছু নিয়ম।
চোখের যত্ন
• ঘর অন্ধকার করে খেলা দেখা নয়। একটা মাঝারি পাওয়ারের আলো জ্বেলে খেলা দেখুন। মোবাইলে খেলা দেখার সময়ও এই নিয়ম মানুন।
• মাঝে মাঝেই উঠে চোখে জলের ঝাপটা দিন। এতে ড্রাই আইজের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবেন।
• ব্লু লাইট প্রতিরোধ করতে পারে, এমন চশমা থাকলে ব্যবহার করুন।
• সম্ভব হলে খেলার কয়েকটা দিন মোবাইল বা কম্পিউটারের অন্যান্য কাজে রাশ টানুন। এতে চোখ কিছুটা বিরাম পাবে।
শরীরে কী কী প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের যে অভাব, তা অন্যভাবে মেকআপ করা যায় না। অনেকেই ভাবেন, একটানা কম ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে একটু বেশি ঘুমিয়ে নেব— কিন্তু এই পদ্ধতিতে কোনোভাবেই শরীরের প্রয়োজনীয় ঘুমের কোটা পূরণ হয় না। তাই অনিদ্রা, ক্লান্তি, অমনোযোগিতা দেখা দেয় অহরহ। ঘুমের ঘাটতি হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে। এতে হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
তাহলে কী উপায়
• সব ম্যাচ না দেখে একটি জরুরি ম্যাচ দেখুন। বাকি ম্যাচের হাইলাইট দেখে নিন। অবসর পেলে একটু ঘুমিয়ে নিন।
• শরীর আর দিচ্ছে না, এমন বুঝলে ম্যাচ যতই উপভোগ্য হোক, শরীরের কথাই শুনুন।
• রাত জাগলে বা ভোরে ওঠা থাকলে ডিনারে হালকা খাবার খান। তাড়াতাড়ি খাওয়া সারুন।
• পর্যাপ্ত জল খান, গভীর রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
• ঘুম কাটানোর জন্য উলটোপালটা স্ন্যাক্সে ভরসা না করে সঙ্গে রাখুন ডার্ক চকোলেট, বিভিন্ন বাদাম বা ড্রাই ফ্রুটস।
• শরীরচর্চা করুন নিয়মিত।
মনীষা মুখোপাধ্যায়