নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝাঁচকচকে অসংখ্য কর্পোরেট হাসপাতালে হয়েছে। সেখানে ‘ফেলো কড়ি, মাখো তেল’ অথবা হেলথ ইনসিওরেন্স কার্ড! অথচ লোকমুখে ‘ধনী ও প্রভাবশালীদের শহর’ বলে পরিচিত বিধাননগরে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়। অ্যাডেড এরিয়া এবং বহু আবাসনে যাঁরা থাকেন, তাঁদের একটি বড়ো অংশই সরকারি হাসপাতালে ভরসা করেন, ভরসা করতে চান। স্থানীয় মহকুমা হাসপাতালে সব স্পেশালিটি চিকিৎসা পান না বলে ছোটেন শহরের অন্যান্য মেডিকেল কলেজে। নেহাতই নিরুপায় হলে তখন প্রাইভেটে। সেই ভোগান্তি ও ছোটাছুটির অবসানের পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্যকর্তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখানে তিন মাসের মধ্যে ক্যাথল্যাব চালু করতেই হবে।
প্রসঙ্গত, ক্যাথল্যাব চালু হলে হার্ট অ্যাটাক এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য আর প্রাইভেটে ভরতির দরকারই পড়বে না। এলাকার স্থানীয় হাসপাতালেই হবে অ্যাঞ্জিওগ্রাম, অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টি। শুধু তাই নয়, তিনটি ধাপে এখানকার পরিকাঠামোগত উন্নতির পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। প্রথম ধাপ, মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে রূপান্তরিত করা। পরের ধাপে সুপারস্পেশালিটি এবং অন্তিম ধাপ হল মেডিকেল কলেজ গড়া। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সিডি ব্লকে স্বাস্থ্যদপ্তরের অব্যবহৃত জমিতে ১৫০ বেডের নতুন হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। উন্নীত বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নতুন নাম হবে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’। দপ্তরেব বার্তা পেয়ে ক’দিন আগেই পিজি হাসপাতালে ক্যাথল্যাব দেখে আসেন এখানকার সুপার ডাঃ পার্থপ্রতিম গুহ। স্থির হয়েছে, আউটডোর বাড়ির তিনতলায় সিসিইউ-এর এক প্রান্তে বসবে ক্যাথল্যাব।
বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের পাশাপাশি অবহেলার শিকার বাঘা যতীন এবং বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনিয়ে শুক্রবারই তিন হাসপাতালের সুপার, জেলার সিএমওএইচ, স্বাস্থ্যভবনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন শারদ্বতবাবু। ছিলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক তথা ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি বলেন, ‘বিদ্যাসাগরে ২৮০ বেড আছে। কিন্তু ২৮টা বেডও রোগী ভর্তির অবস্থায় নেই। এটি মাল্টিসুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল হবে। আধুনিক নিউরো, কার্ডিও, অর্থো বিভাগ থাকবে।’