নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজও নেই একজন কার্ডিওলজিস্ট। চালু হয়নি ক্যাথল্যাব। বাইপাস সার্জারি দূরঅস্ত, হৃদরোগে আক্রান্তের বুকে স্টেন্ট বসানোর মতো ন্যূনতম পরিকাঠামোও নেই এখানে। বলা যায়, মালদহবাসী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ভগবানই একমাত্র ভরসা।
মালদহ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, শহরের একটি নার্সিংহোমে একজন কার্ডিওলজিস্ট আছেন। কারও যদি হার্ট অ্যাটাক হয়, আর সেদিন ওই নার্সিংহোমে কার্ডিওলজিস্ট না থাকেন, তাহলে রোগীর চরম পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনা।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের সময় মালদহ মেডিকেলে পিপিপি বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে ক্যাথল্যাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় মেডিকেল থেকে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে স্বাস্থ্য ভবনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে মালদহ জেলায় কর্মরত স্বাস্থ্যকর্তাদের দু’একজন তখন স্বাস্থ্যভবনে ছিলেন। তাঁদের হাতে সেই ফাইল গিয়েছিল। এপর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাদ সাধে তৎকালীন সরকারের একাংশের কিছু হঠকারি সিদ্ধান্ত।
মালদহ জেলার ওই পদস্থ স্বাস্থ্যকর্তা জানান, সেই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পিপিপি মডেলে নয়, স্বাস্থ্য দপ্তরই মালদহ মেডিকেলে ক্যাথল্যাব চালাবে। সরকার ক্যাথল্যাব চালাতে গেলে অন্তত তিনজন কার্ডিওলজিস্ট ও ল্যাব প্রয়োজন। তারপর স্বাস্থ্যদপ্তর প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতেই পারেনি।
স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশ মনে করেন, সেই সময় যদি পিপিপি মডেলে ক্যাথল্যাব তৈরি করা হত, তাহলে এতদিনে বহু রোগীর বুকে সফলভাবে স্টেন্ট বসানো যেত।
হৃদরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ক্যাথল্যাবের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। স্টেন্ট বসানো হোক বা বাইপাস সার্জারি, সবটাই এই ক্যাথল্যাব থেকে হয়। কারও হার্ট অ্যাটাক হলে ক্যাথল্যাব থেকে স্টেন্ট বসানো হয়। এতে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অনেকটা সময় মেলে।
মালদহ মেডিকেল পরিদর্শনে গিয়ে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়িকে। বিধায়ক বলেন, মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে একটি প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। তাঁরা আমাকে ক্যাথল্যাব তৈরির প্রস্তাব বানিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে তদ্বির করব।