অলকাভ নিয়োগী, ডিমাপুর: সবুজ গালিচায় মোড়া পাহাড়ি জনবসতি। বুক ভরে শ্বাস নিলেই অক্সিজেন। এই প্রাকৃতিক পরিবেশেও মারণ ক্যানসারে ভুগছেন নাগাল্যান্ডের অসংখ্য মানুষ। সবচেয়ে বেশি ন্যাসোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যানসার। যার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মাদক সেবন। এছাড়াও, জরায়ু ক্যানসার, পাকস্থলী ক্যানসার, থাইরড ক্যানসারের রোগীও রয়েছেন। ক্যানসারের চিকিৎসা থাকলেও এতদিন ছিল না উন্নতমানের পরিষেবা। তাই উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে ক্যানসার চিকিৎসায় ডিমাপুর ক্রিশ্চিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ (সিআইএইচএসআর)-এ চালু হচ্ছে নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ব্র্যাকিথেরাপির মতো উন্নত পরিষেবা। যা নাগাল্যান্ডে প্রথম। অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের পরিচালন লাইসেন্স পাওয়ার পর জুলাই-আগস্টে চিকিৎসা শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিল্ডিং তৈরির কাজ শেষ। বসছে সরঞ্জাম। ডিমাপুরের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ইথোবি তুচু,
অ্যালাইড হেল্থ সায়েন্সের প্রিন্সিপাল (সিআইএইচএসআর) ডাঃ পল
রবীন্দ্রন জানালেন, ডিমাপুরের সিআইএইচএসআরে ক্যানসার চিকিৎসা ছিল। কিন্তু, এই আধুনিক পরিষেবা ছিল না। ক্যানসার ইউনিটের উন্নতিকরণের জন্য রাজ্যকে প্রস্তাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নাগাল্যান্ড সরকার কেন্দ্রকে জানায়। তারপরই প্রাইম মিনিস্টার ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর নর্থ ইস্টার্ন রিজিয়নের স্কিমে ২০২৪ সালের ১৩ জুন ৩৪ কোটি ৫০ লক্ষ অর্থ বরাদ্দ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক। প্রকল্পে ‘নিউক্লিয়ার মেডিসিন ফ্যাসিলিটি’, ‘হাই-এনার্জি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর বাঙ্কার’ এবং ‘হাই-ডোজ-রেট (এইচডিআর) ব্র্যাকিথেরাপি ফ্যাসিলিটি’ চালু হবে।
একই সঙ্গে নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিলের (এনইসি) অর্থে ডিমাপুরেই তৈরি হয়েছে নর্থ ইস্ট রিজিওনাল মাল্টিডিসিপ্লিনারি প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল, অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরোম, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরার জন্য দক্ষ প্যারামেডিকেল কর্মী তৈরি করা।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় উন্নয়নের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক ডিমাপুরের ঘন ঘন লোডশেডিং সমস্যাও কমিয়েছে। নাগারজান অঞ্চলে বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাব-স্টেশনের আধুনিকীকরণ করা হয়েছে ২৪ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকায়। ক্ষমতাবৃদ্ধি করার ফলে, বিদ্যুতের ঘাটতি মিটেছে। নাগাল্যান্ড রাজ্যের মধ্যে ডিমাপুরে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেকটাই। তার মধ্যে কর্মাশিয়াল অঞ্চলও রয়েছে। কিন্তু, এতদিন বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। আপগ্রেডেশনের ফলে সেই সমস্যা মিটেছে। এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আসাংবা টিখির বলেন, আগে ডিমাপুরে ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ থাকত, ৪০ শতাংশ এলাকায় লোডশেডিং। এখন এক সঙ্গে ৯০-৯৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রককে ধন্যবাদ।