পরামর্শে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ।
পরামর্শে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ
• মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি সংক্রমণ ঘটতে পারে অতি ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক, রোগীর সংক্রমিত রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করা, সুস্থ ব্যক্তির শরীরে কোনও ক্ষতের মাধ্যমে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহরস প্রবেশ করার মাধ্যমে। হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি এমনই সংক্রমণ।
• রোগীর হাঁচি, কাশির সময় ড্রপলেট বেরিয়ে আসে যা সুস্থ ব্যক্তির নাকে ও মুখে ঢুকলে সংক্রমিত হতে পারেন। যেমন কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ।
• সন্তানসম্ভবা মায়ের থেকে গর্ভস্থ সন্তানের দেহে সংক্রমণ হয় এইচআইভি, সিফিলিস, রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস, টক্সোপ্লাজমোসিস-এর ক্ষেত্রে। জীবাণু মায়ের প্লাসেন্টা মারফত শিশুর দেহে প্রবেশ করতে পারে। প্রসবের সময় শিশু কোনওভাবে মায়ের সংক্রামিত ভ্যাজাইনাল ফ্লুইড বা রক্তের সংস্পর্শে আসলেও শিশু সংক্রমিত হতে পারে।
পরোক্ষ সংক্রমণ কীভাবে?
• বাতাসে ভাসমান ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে মানুষকে। যেমন কোভিড, হাম, চিকেন পক্স-এর কথা বলা যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যক্ষ্মার সংক্রমণও হয়।
• কলেরা, টাইফয়েড হয় দূষিত জল ও খাবার থেকে। হেপাটাইটিস এ হয় সংক্রমিত জল এবং খাদ্য থেকে। এমন সংক্রমণ থেকে হওয়া অসুখকে ভেহিকল বর্ন ডিজিজ বলে।
• অসুস্থ ব্যক্তির জামাকাপড় পরিষ্কার করতে গিয়েও জীবাণু সংক্রমণ ঘটে। একে বলে ফোমাইট বর্ন ইনফেকশন।
• আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর, অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে সে মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া হতে পারে। একে বলে ভেক্টর বর্ন ডিজিজ। কালাজ্বরও তাই। ছড়ায় বেলেমাছির মাধ্যমে।
পরিচর্যা কীভাবে?
• হেপাটাইটিস বি, সি, এইচআইভি রোগীর চিকিত্সার সময় কোনওভাবেই যেন রোগীর শরীরের তরল পরিচর্যাকারীর ক্ষতের সংস্পর্শে না আসে। রোগীর ব্যবহার করা ব্লেড অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। এমন রোগীর সঙ্গে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন চলবে না। রোগীর রক্ত দান করা যাবে না।
• কলেরা বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস-এর জীবাণু আক্রান্ত রোগীর জামাকাপড় পরিষ্কার করার সময় খুব সতর্ক হতে হয়। তাই গ্লাভস ও মাস্ক পরে প্রথমে জামাকাপ়়ড়গুলি নিয়ে ০.৫ শতাংশ ক্লোরিন সলিউশনে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। যদি ক্লোরিন না থাকে, তবে কাপড়গুলো একটি বড় পাত্রে নিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ফুটন্ত গরম জলে ডিটারজেন্ট গুলে নাড়াচাড়া করে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ডিটারজেন্ট দিয়ে পোশাক কাচুন। রোদে কাপড় শোকান। হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
• চিকেন পক্স, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা যে কোনও ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সার প্রাথমিক শর্তই হল তাঁকে আলাদা ঘরে রাখা। ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো, বাতাস ঢোকে। গ্লাভস এবং মাস্ক পরে রোগীর কাছে যেতে হবে ও তাঁর চিকিত্সা করতে হবে। রোগীর ডায়েটে যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে, সেদিকে নজর দিন। সহজপাচ্য খাবার এবং তরল খাবার বেশি রাখুন। একেবারে অনেকটা না খাইয়ে অল্প অল্প করে বার বার খাওয়ান।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক