Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

পুজোয় বাড়িতে থাকা অসুস্থ বয়স্কদের জন্য কী কী সতর্কতা?

সামনেই পুজো। প্যান্ডেল হপিং, রেস্তরাঁয় খাওয়া-দাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে বেরনো। লম্বা প্ল্যানিং। তবে এরই মাঝে বাড়ির বয়স্কদের খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

পুজোয় বাড়িতে থাকা অসুস্থ বয়স্কদের জন্য কী কী সতর্কতা?
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:০৯
Prefer us on Google

পরামর্শে বিশিষ্ট জেরিয়াট্রিশিয়ান ডাঃ ধীরেশ কুমার চৌধুরী।

Advertisement

সামনেই পুজো। প্যান্ডেল হপিং, রেস্তরাঁয় খাওয়া-দাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে বেরনো। লম্বা প্ল্যানিং। তবে এরই মাঝে বাড়ির বয়স্কদের খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। কথায় বলে, বয়স হলে বাড়ির বুড়োরাও বাচ্চা হয়ে যান। হাঁটু-কোমরে ভীষণ ব্যথা। তাও প্যান্ডেলে ঘোরার বায়না। কেউ কেউ আবার ক’দিন বাইরের খাবার খেয়ে পেটের সমস্যা বাধিয়ে বসেন। যাদের বাড়িতে অসুস্থ বয়স্করা রয়েছেন, তাদের সমস্যা আরও বেশি। কখন কী বিপদ হয়। এইসময় প্রায় সব জায়গায় ছুটি থাকে। তাই আচমকা কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে বড় সমস্যা। এক্ষেত্রে বাড়ির বয়স্কদের সুস্থ রাখতে কী কী আগাম সতর্কতা প্রয়োজন? জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে রক্ত, অ্যাম্বুলেন্স সহ যাবতীয় ব্যবস্থা করা যাবে? বিশেষজ্ঞ ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের সঙ্গেই বা কীভাবে করা যাবে যোগাযোগ? আসুন জেনে নিই।
বাড়িতে আগাম সতর্কতা
উচ্চ রক্তচাপ, সুগার, হার্টের অসুখ। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সমস্যা একাধিক। পুজোর সময় ছুটিতে যেতে পারেন চিকিৎসকরা, তাই আগেভাগে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ওষুধপত্র আনিয়ে রাখতে হবে। 
পুজোয় লাউডস্পিকার বয়স্কদের হার্ট আর কানের জন্য মোটেই ভালো নয়। অবিলম্বে পাড়ার পুজো কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করার পাশাপাশি ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ রাখতে হবে শব্দদানবের তাণ্ডব কমাতে। ধোঁয়া, বাজি, পটকা থেকে তাঁদের দূরে রাখতে হবে। যাতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা না হয়। পুজোর আনন্দ, ব্যস্ততার ভিড়ে যেন রোজকার ওষুধ মিস না হয়ে যায়। বয়স্কদের খাওয়া- দাওয়ার উপর বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। অনেকসময় বয়স্ক মানুষজন একাকিত্বে ভোগেন। তখন বাকি সদস্যদের মানসিক সমর্থনও অত্যন্ত প্রয়োজন।
জরুরি পরিস্থিতিতে
এছাড়া জরুরি অবস্থা যেমন বুকে ব্যথা, নিঃশ্বাসের কষ্ট, হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক। পুজোর সময় এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবা সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। পুজোর সময় হাসপাতাল ছাড়া সে অর্থে জরুরি পরিষেবা পাওয়া খুব সমস্যার। কারণ অধিকাংশ ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ থাকে। অনেক ডাক্তার ছুটিতে থাকেন। একাধিক সংস্থা সারাবছর সক্রিয়ভাবে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিয়ে থাকে। পুজোর সময় অ্যাম্বুলেন্স বা রক্তদানের ক্ষেত্রে একটু আধটু সমস্যা হয়। বড় বড় পুজোর এলাকায় যানজটে পড়তে হয়। তবে মানুষজন জরুরি অবস্থা বোঝেন। রাস্তাঘাটে সমস্যা হলে পুলিশ সাহায্য করে। এক্ষেত্রে ডাক্তার, সিস্টার, অ্যাম্বুলেন্স,প্যারা মেডিকেল স্টাফ, কেয়ার ম্যানেজার সবাই প্রস্তুত থাকে। কেউ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। কেউ পড়ে গিয়েছেন। কারও রক্তের প্রয়োজন। সবক্ষেত্রেই টিম রেডি থাকে। দ্রুত এলাকায় এলাকায় পৌঁছে অক্সিজেন, রক্ত, অ্যাম্বুলেন্স সহ যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও ব্লাড ব্যাঙ্কে কেউ রক্ত না পেলে, ডোনাররা সরাসরি গিয়ে রক্ত দেন। সেই পরিকাঠামোও রয়েছে। এক্ষেত্রে আশপাশের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বরগুলি জেনে রাখা প্রয়োজন। আর তাতেই মুশকিল আসান। সপরিবারে পুজো কাটবে আনন্দে।  লিখেছেন শোভন চন্দ

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ