Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

বাচ্চাদের জ্বরে কী কী সতর্কতা

এই কারণে বাতাসে ভাসমান ভাইরাস মাটির অনেক কাছাকাছি নেমে আসে বা নাক ও মুখের প্রায় সমান উচ্চতায় চলে আসে

বাচ্চাদের জ্বরে কী কী সতর্কতা
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

• শিশুদের শীতে জ্বরজারি বাড়ে?

Advertisement

•• শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। তার উপর শীতকালে বাতাস ভারী হয়ে যায়। এই কারণে বাতাসে ভাসমান ভাইরাস মাটির অনেক কাছাকাছি নেমে আসে বা নাক ও মুখের প্রায় সমান উচ্চতায় চলে আসে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। আবার, শীতে ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এসে নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কম কার্যকরী হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
• রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী কী নেওয়া যেতে পারে?
•• শিশুদের ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধে আরামদায়ক সুতির একটি পোশাক পরান। তারপর পরান উলের পোশাক। সরাসরি উলের পোশাক পরাবেন না। তাতে ত্বকে র‌্যাশ বেরনোর আশঙ্কা থাকে। সুতি ও উলের পোশাকের মাঝে বাতাস আটকা পড়ে যায়। বাতাস তাপের কুপরিবাহী। ফলে শরীর ঠান্ডা হয় না। শরীরের উত্তাপও বাইরে বেরয় না। মাথা-কান-গলা ঢাকার উপযুক্ত টুপি ব্যবহার করুন। তাই বলে মাত্রাতিরিক্ত পোশাক পরানো যাবে না। বেশি পোশাক পরিয়েছেন কি না তা বুঝতে শিশুর ঘাড় ও পিঠে হাত দিয়ে দেখুন। ঘাম হলে পোশাকের সংখ্যা কমান। এগুলির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। শীতকালে বাচ্চাকে রোদে দাঁড় করিয়ে বা শুইয়ে অল্প মাত্রায় নারকেল তেল নিয়ে ওদের গায়ে কোমলভাবে মাসাজ করুন। তাতে শিশুর শরীরে ভিটামিন-ডি-এর অভাব মেটে। ত্বক শুষ্ক হওয়ার ভয়ও দূর হয়।  
• জল পান কতটা জরুরি?
•• জল অবশ্যই পান করাতে হবে। এছাড়া ওকে গরম স্যুপ দিন, পান করান গরম দুধ। তাতে জলশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা যাবে। 
• রোগ প্রতিরোধে খাবার কী কী খাবে?
•• রোজ যা খায় তাই খাবে। অর্থাত্‍ ডাল, ভাত, মাছ, ডিম। সঙ্গে লেবুজাতীয় ফল, পেয়ারা বা যে কোনও মরশুমি ফল অবশ্যই খাওয়ান প্রতিদিন। 
• আরও কী কী সাবধানতা নেওয়া দরকার?
•• দুধের শিশুকে নিয়ে কোনও সভা সমাবেশে যাবেন না। অসুস্থ কোনও মানুষের সংস্পর্শে যাওয়া থেকে যথা সম্ভব দূরে থাকুন।
• জ্বর হলে প্রাথমিক চিকিত্‍সা কী কী আছে?
•• প্যারাসিট্যামল খাওয়াতে পারেন। চিকিত্‍সকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাওয়াবেন না। শিশুদের পর্যাপ্ত জল ও তরল, সহজপাচ্য খাবার এবং পুষ্টিকর খাদ্য দিন। যদি খেতে না চায় জোর করবেন না। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান। তবে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, একটানা বেশ কয়েকদিন ধরে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকলে, শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়লে, মুখ থেকে লালা ঝরলে, ঘন ঘন বমি হলে ও ইউরিন কমে গেলে দ্রুত চিকিত্‍সকের কাছে নিয়ে যান।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ