বহু প্রবীণকে বাড়িতে একা থাকতে হয়। কোন উপায়ে তাঁদের সুরক্ষা দেবেন?
ঘটনা ১: সল্টলেকের আবাসনে একাই থাকেন ৭৫ বছরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরুণবাবু। গ্রীষ্মের দুপুরে বেল বাজতেই তিনি কোনো কিছু না দেখে দরজা খুলে দেন। নিজেকে ব্যাংককর্মী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। অরুণবাবু বিশ্বাস করে তার হাতে তুলে দেন ব্যাংকের পাসবই, মোবাইলে আসা ওটিপি। কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় উধাও!
ঘটনা ২: করিমগঞ্জের অশীতিপর মীনা দেবী প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রক্তচাপ বেড়ে যায় তাঁর। মীনা দেবীর মেয়ে আগেভাগেই গুছিয়ে রেখে গিয়েছিলেন যাবতীয় ওষুধ। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সাহায্যে দ্রুত চিকিৎসা পেয়ে সেরে ওঠেন তিনি।
দৈনন্দিন জীবনে এমনই নানা ঘটনা শোনা যায় চারপাশে। বাড়িতে প্রবীণ মানুষ থাকা আশীর্বাদস্বরূপ। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা বাড়ে। ফলে বাড়িতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবারের দায়িত্ব। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক সময়ই প্রবীণরা বাড়িতে একা থাকেন। কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
নিরাপত্তার প্রথম ধাপ: বাড়ির মূল দরজায় একটি ভালো মানের লুকিং গ্লাস বা ভিডিও ডোরবেল লাগানো উচিত। এতে বাইরে থেকে কেউ এলে দরজা খোলার আগে সহজেই দেখতে পারবেন কে এসেছে। অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখলে দরজা না খোলার বিষয়টিও তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
নজরদারি: বাড়ির ভিতরে ও বাইরে সিসি ক্যামেরা বসান। এর মাধ্যমে প্রবীণ সদস্যের উপর নজর রাখতে পারবেন সবসময়।
হাতের কাছে প্রয়োজনীয়: প্রবীণদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। তাঁদের হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন সেগুলি। প্রয়োজনে ওষুধের বাক্সে সকাল, দুপুর, রাত অনুযায়ী ভাগ করে লিখে দিন। চিকিৎসকের নম্বরও দিয়ে আসুন তাঁদের। জরুরি সময়ের জন্য একটি অ্যালার্ম বাটন বা জরুরি কলিং ডিভাইসও রাখুন।
খোঁজখবর: অনেক পরিবারে প্রবীণদের দেখাশোনার জন্য পরিচারিকা রাখা হয়। সেক্ষেত্রে তাঁর পরিচয়পত্র, ছবি, স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে রাখা উচিত। সম্ভব হলে স্থানীয় থানায় বা সোসাইটির নিরাপত্তা দপ্তরে সেই তথ্য জমা দেওয়া ভালো।
অন্দরমহল: বাড়িতে যদি সিঁড়ি থাকে, তাহলে বয়স্কদের উপরের তলায় না রেখে নীচের তলায় থাকার ব্যবস্থা করা শ্রেয়। বাথরুমে অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট, হাতল এবং পর্যাপ্ত আলো থাকা আবশ্যক। ঘরের মেঝেতে তার, আলগা কার্পেট বা এমন কোনো জিনিস রাখা উচিত নয় যাতে হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাতের বেলায় চলাফেরার সুবিধার জন্য করিডর ও বাথরুমে নাইট লাইট রাখা যেতে পারে।
রান্নাঘরে সাবধান: রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ শনাক্ত করার যন্ত্র এবং স্মোক ডিটেক্টর থাকলে নিরাপত্তা আরও বাড়ে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত যাতে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা না থাকে।
পড়শি: প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। আশপাশের মানুষ আপনার বাড়ির বয়স্ক সদস্যের খোঁজ রাখলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য সম্ভব।
সমাজকথন: বয়স্কদের সামাজিকভাবে সক্রিয় রাখা জরুরি। তাঁরা যেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন, সেদিকে নজর দিতে হবে। কোনো ক্লাব, প্রবীণদের সংগঠন বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলে তাঁদের একাকীত্ব কমে। প্রযুক্তিতে বাজিমাত: বর্তমানে প্রযুক্তিও প্রবীণদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বড়ো ভূমিকা রাখতে পারে। স্মার্টফোনের ব্যবহার শেখানো, ভিডিও কলের ব্যবস্থা করা, জরুরি নম্বর স্পিড ডায়ালে রাখা কিংবা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকারী স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
নিজস্ব প্রতিনিধি



