নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলাজুড়ে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে নতুন আর্থিক বছরে জেলা পরিষদের ৩০৭কোটি টাকার বাজেটে সিলমোহর পড়ল। এই টাকা খরচ করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রূপায়ণ হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন, স্টেট ফান্ড সহ বিভিন্ন খাতে খরচের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে উপরের দিকে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। এবছর কাজের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে জেলা পরিষদ একাধিক রাস্তার সংস্কার ছাড়াও সেতু, নিকাশি নালা তৈরির কাজ করবে। এবারের বাজেটে স্টেট ও সেন্ট্রাল ফাইনান্স কমিশনের আওতায় ৫১কোটি টাকা ধরা হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, নতুন অর্থবছরে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ হবে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন উপকৃত হবেন। জেলা পরিষদের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নতুন অর্থবছরে আমাদের কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে।
রাজ্য সরকারের তরফে পুরসভা এলাকার পাশাপাশি পঞ্চায়েতস্তরে উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জেলার প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকা ঢেলে সাজার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো জেলা প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরফলে গ্রামীণ এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। বহু এলাকায় পানীয় জল, নিকাশি নালা, শৌচাগারের সমস্যার সমাধান হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি যেমন বিভিন্ন প্রকল্পের রূপায়ণ করছে, তেমনই পিছিয়ে নেই জেলা পরিষদও। জানা গিয়েছে, গত দেড় বছরে বদলে গিয়েছে মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। এই অল্প সময়ের মধ্যে কাজও বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। শুধু পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ১০০কোটি টাকার বেশি খরচ করে নানা প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। এরফলে উপকৃত হচ্ছেন মেদিনীপুর জেলার কয়েক হাজার গ্রামের মানুষ। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-’২৫ অর্থ বছরের তুলনায় এবছরের বাজেট কিছুটা কমেছে। তার কারণ, এবছর আরআইডিএফের ফান্ড পাচ্ছে না জেলা পরিষদ। জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের নিজস্ব ফান্ডে ৩ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বেতন খাতে ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে জেলা পরিষদ। অন্যদিকে, বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া ফান্ড ৩৩ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জন্য ৬৮কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা, স্টেট ও সেন্ট্রাল ফাইনান্স কমিশনের আওতায় ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, কাজের দিক থেকে অন্যান্য জেলাকে টক্কর দিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। কাজের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, বহু রাস্তার কাজ হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু সেতু তৈরি হচ্ছে।