অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: সেমেস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দেড়মাস আগে চালু করতে চলেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। পঠনপাঠনের সময়সীমা বাড়ানোর জন্যই সংসদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল থেকেই ক্লাস চালু করে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে দ্রুতই।
সংসদের বক্তব্য, সেমেস্টার পদ্ধতি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। তাই দু’টি সেমেস্টারের মধ্যে আগের মতো লম্বা ছুটির প্রয়োজন নেই। অন্যান্য বার মে’র মাঝামাঝি দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতো। তবে এবার গরমের ছুটির আগে দ্বাদশ শ্রেণির প্রথম সেমেস্টারের পড়াশোনা অনেকটাই এগিয়ে রাখতে চাইছে সংসদ। এর পিছনে কয়েকটি কারণও রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে পরিদর্শকের ভূমিকায় থাকা শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, এবছর যা সহজ প্রশ্ন হয়েছে, তা এ যাবৎকালে হয়নি। তাও এক শ্রেণির পরীক্ষার্থী গোটা পরীক্ষায় প্রায় কিছুই লিখতে পারছে না। প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র নিয়ে বসেই থাকছে। উদ্বেগের বিষয়, সহজ প্রশ্ন হলেও একই ছবি ধরা পড়ছে একাদশের দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষাতেও। এই পরিস্থিতির কথা পৌঁছচ্ছে সংসদের কাছে।
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে নিরাপত্তা বাহিনী রাখার জন্য স্কুলগুলির দখল নেবে নির্বাচন কমিশন। তাই, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনতে হবে। যে হারে গরম পড়তেই তাপপ্রবাহ শুরু হচ্ছে তাতে গ্রীষ্মাবকাশকেও দীর্ঘায়িত করতে হচ্ছে। ফলে, মোট পঠনপাঠনের সময় কমছে। সে কারণেও আগেভাগে দ্বাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু করা হচ্ছে বলে দাবি সংসদের আধিকারিকদের একাংশের। সেমেস্টার পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গেই সিলেবাসেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। আবার সেই পরিবর্তিত সিলেবাসও এক বছরের আগেই পাল্টে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে সংসদ। ফলে, পড়ুয়ারা কার্যত পাঠ্যবই ছাড়াই পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হচ্ছে। নয়া সিলেবাস মেনে কীভাবে পড়ানো হবে, তা নিয়ে শিক্ষকদের ওয়ার্কশপও করাচ্ছে সংসদ। এসবের জন্যও বাড়তি সময়সীমা হাতে রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণির গুরুত্ব আর সেভাবে নেই। ফলে পড়াশোনার মান তলানিতে পৌঁছেছে। পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের শোচনীয় অবস্থা সামনে আসছে। সংসদ সভাপতি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, একাদশে কোনও বিষয়ে ফেল করলেও আর আটকে রাখা হবে না ছাত্রছাত্রীদের। তারা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে পারবে। এই নিয়মের ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আরও ঢিলেঢালা ভাব এসেছে বলে শিক্ষকদের দাবি।