নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ থেকে ৪০০ বছর আগে কি কলকাতায় বাঘ ঘুরে বেরাত? এটি কি মিথ? না কি ফ্যাক্ট? উত্তর দিয়েছে আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসব। জানিয়েছে, বাঘ ঘুরে বেরানোর বিষয়টি আসলে মিথ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ থেকে ৪০০ বছর আগে কি কলকাতায় বাঘ ঘুরে বেরাত? এটি কি মিথ? না কি ফ্যাক্ট? উত্তর দিয়েছে আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসব। জানিয়েছে, বাঘ ঘুরে বেরানোর বিষয়টি আসলে মিথ।
আচ্ছা, সত্যি সত্যিই কি মাত্র ১৩০০ টাকার বিনিময়ে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর গ্রাম ব্রিটিশদের বিক্রি করেছিল? এইসব বহু উৎসাহব্যঞ্জক প্রশ্ন ঘুরপাক খায় কলকাতার অলিগলিতে। এসবের উত্তরও দিয়েছে ইতিহাস উত্সবের প্রাঙ্গণ। ‘মিথ’ আর ‘ফ্যাক্ট’ নামে একটি আলাদা বিভাগ রাখা হয়েছিল। সেখানে সঠিক বেঠিক জেনে নিয়েছেন দর্শকরা।
সেখানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, ৪০০ বছর আগে কলকাতা ছিল রায়চৌধুরী পরিবারের জায়গিরের অংশ। তখন দোতলা বাড়ি, পাকা রাস্তা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা সবই ছিল। অনেক তীর্থযাত্রীও আসতেন। ফলত, বাঘ বেরনোর গল্প একেবারেই কাল্পনিক। তারপর লেখা রয়েছে, সত্যিই যদি কলকাতা-সুতানটি-গোবিন্দপুর বিক্রি হয়ে যেত তাহলে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কেন পরিবারকে খাজনা দিত? অর্থাত্, ওই তিন গ্রাম কখনওই বিক্রি হয়নি। বুধবার বড়িশার সাবর্ণ সংগ্রহশালায় শেষ হয়েছে উত্সব। এ বছর থিম ছিল, জাপান। বেহালা কলেজ, নিউ আলিপুর কলেজের পড়ুয়ারা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন প্রদর্শনীর খুঁটিনাটি। রাখা হয়েছিল বিরাট একখানা জাপানি পোশাক। যা বিয়ের সময় জাপানি মহিলারা পরে থাকেন। সেই লাল কাপড়ের উপর এমব্রয়ডারি করা কাজ বলে দেয় সেই মহিলা কোন শ্রেণির। এই প্রদর্শনীতেই রাখা ছিল মোঘল আমলের বিষপাত্র। সুদৃশ্য ওই পাত্র ব্যবহার করতেন রায়চৌধুরী পরিবারের লক্ষ্মীকান্ত রায়চৌধুরী। এই পরিবার ১৯৮৮ সাল থেকে একটি হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করত। সেই পত্রিকাও ছিল উৎসবে।
প্রদর্শনীটি যেন টাইম মেশিনে চেপে পুরোনো কলকাতায় পৌঁছে দিয়েছিল সবাইকে। বড়িশার বড়োবাড়ির উঠোনে একদা পা রেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। কলকাতায় বাড়ি তৈরির জন্য যে ইট প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল, তাও ছিল রাখা। সুন্দর নকশা আঁকা ১৫০ বছরের পুরোনো বিয়ের পিঁড়ি। চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ইতিহাস জানতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারা যেমন হাজির হয়েছিলেন তেমনই ভিড় ছিল প্রবীণদের। অ্যানি বেসান্তের লেখা গীতা, রাধানাথ রায়চৌধুরীর ১৮৭০-’৭১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষার শংসাপত্র ছিল প্রদর্শনীতে। প্রায় সাড়ে তিন কোটি বছরের পুরোনো বাঁদরের দাঁত বিশেষ আকর্ষণ কেড়ে নিয়েছিল সবার। গোটা পৃথিবীর নানা ধরনের গয়নাও ছিল। সুচিত্রা সেন, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের টেস্ট রেকর্ডও দেখেছেন দর্শকরা।
সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী বলেন, ‘থিম জাপানের ইতিহাস, সে দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এই সংগ্রহশালা বৃহস্পতিবার বাদে সবদিনই খোলা থাকে। কিন্তু এই বছর থাকা দুষ্প্রাপ্য জিনিসগুলো আবার কবে দেখা যাবে জানি না। ফের আগস্ট মাস থেকে সংগ্রহশালা খোলা থাকবে। পাশাপাশি একটি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামও শুরু করতে চলেছি।’