Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

ভাল

মনকে সুখ-দুঃখ ভালমন্দ ইত্যাদির দিক থেকে সরিয়ে এনে মন্ত্রের আশ্রয়ে নিয়ে এস। ভাল সুখ লাভ ইত্যাদিকে শক্ত করে ধরতে যেও না, শক্ত করে ধরতে চেষ্টা কর মন্ত্রকে

ভাল
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মনকে সুখ-দুঃখ ভালমন্দ ইত্যাদির দিক থেকে সরিয়ে এনে মন্ত্রের আশ্রয়ে নিয়ে এস। ভাল সুখ লাভ ইত্যাদিকে শক্ত করে ধরতে যেও না, শক্ত করে ধরতে চেষ্টা কর মন্ত্রকে। কারণ সুখ লাভ ভাল ইত্যাদি অনিবার্য্যভাবে দুঃখ ক্ষতি মন্দ ইত্যাদিকে নিয়ে আসবেই এবং তোমাকে ভুগিয়ে মারবেই। অর্থাৎ তুমি মনের খপ্পরে পড়ো না, মনের পারে মন্ত্রের আশ্রয়ে চলে যাও। মনটিকে ক্রমশ শূন্য নিষ্ক্রিয় প্রতিক্রিয়াবর্জ্জিত করার চেষ্টা কর। এটিই হ’ল সাধনা এবং সিদ্ধি যুগপৎ উভয়ই। বেদবেদান্ত গীতা ইত্যাদি যেখানে যত সাধনা এবং সিদ্ধির কথা বলা হয়েছে—তার মূল কথা এই—পথের মধ্যেই লক্ষ্য নিহিত, তোমার যথার্থ সাধনপ্রয়াসের মধ্যে তোমার সিদ্ধি, means-এর মধ্যে end লুকিয়ে আছে। বেদান্ত বারবার মনটি উড়িয়ে দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। গীতা বারবার সুখ-দুঃখ লাভ-অলাভ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবার কথা বলছেন। এগুলি তো নেতিবাচক দিক। তবে ইতিবাচকটি কি? অর্থাৎ কাকে নিয়ে থাকব, কার আশ্রয়ে থাকব, কে আমাকে এই দোলাচল মনোবৃত্তি থেকে মুক্তি দেবে? জগতে এমন কিছু আছে কি? আছে, তিনি হলেন মন্ত্র—মন্ত্র স্বয়ম্ভূ স্বয়ংক্রিয় স্বয়ংসিদ্ধ স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তি, যা অনাদিকাল থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বিরাজিত। যাঁর আশ্রয়ে আমার পূর্ব্বে লক্ষকোটি জীব আশ্রয়ে পেয়ে গেছে এবং আমার পরেও পাবে। আমি সেই মন্ত্রের নিশ্চিত আশ্রয়ে যাই না কেন। ঈশ্বর বা ব্রহ্মকে দেখতে জানতে বা শুনতে পাই না। কিন্তু বেদ ও তন্ত্রের কৃপায় মন্ত্র আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সেই মন্ত্রের আশ্রয়ে নিজেদের সমর্পণ করি। ব্যক্তি নয়, দর্শন নয়, মতবাদ নয়, শুষ্ক ধর্ম্ম নয়—এদের কারও আশ্রয় নয়। এরা কেউ তোমাকে অন্তিমে রক্ষা করতে সমর্থ হবে না। সমর্থ হবে একমাত্র মন্ত্র।

Advertisement

অনাদিকাল ধরে মন্ত্র জগতে বিরাজিত, অনন্তকাল পর্যন্ত মন্ত্রই একমাত্র বিরাজিত থাকবে। এস বন্ধু, আমরা সেই পতিতপাবন তারকব্রহ্ম মহামন্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করি। তাঁরই সেবায় নিত্য রত হই, আমাদের সকল প্রয়াস তাঁকে আশ্রয় করেই গড়ে উঠুক। আমাদের সকল কৃতকার্যতা তাঁরই সেবায় নিরিখে নির্ণীত হ’ক। সুখ বলতে অনুভব কর মন্ত্র, লোকসান যখন হবে তখন মন্ত্রেরই লীলা বলে বোধ কর। মন্ত্রই জীবজগতে নিত্যক্রিয়াশীল—এটি উপলব্ধি করার জন্য সর্ব্বদা প্রয়াসী হও। সংকল্প থেকে সৃষ্টি। ব্রহ্মের সংকল্প হল মন্ত্র স্বয়ং। সুতরাং মন্ত্রকে ছেড়ে আমি ভিন্ন সঙ্কল্পের পিছনে ছুটে দ্বিচারিণী হব কেন? মন্ত্রের এই নিত্য স্মরণ-মননের নাম জপসাধনা। সর্বত্র মন্ত্রের নিত্য উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করাই হল মন্ত্রদর্শন। সহস্র আনুকূল্য প্রতিকূলতার মধ্যে মন্ত্রের মহিমময় বোধে আস্থা এবং প্রতিষ্ঠার নাম মন্ত্রসিদ্ধি। 
অযাচকের ‘জপ’ (২য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ