সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বারাসত কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতাকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর ছবি ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে কলেজের ইউনিয়ন রুমে বসল বিয়ের আসর! মালাবদল, শুভদৃষ্টি, সিঁদুরদান— রীতি মেনে সবই হয়েছে কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ঘরে। পাত্রী ওই কলেজেরই ছাত্রী। এই বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, কলেজ ছুটি হয়ে যাওয়ার পরে কয়েকজন চুপিসারে ভিতরে ঢুকে বিয়ের আয়োজন করেছিল। কলেজের ভিতর কীভাবে বিয়ে হল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
প্রায় ছ’মাস আগের কথা। অশোক গায়েন নামে এক যুবকের সঙ্গে কলেজেই বিয়ে হয়েছিল ওই ছাত্রীর। অশোক বহিরাগত হলেও মাঝেমধ্যে কলেজে আসতেন। এর থেকেই স্পষ্ট, ক্যাম্পাসে অবাধ বিচরণ ছিল বাইরে লোকজনের। যেদিন বিয়ের আসর বসেছিল, সেদিন নির্ধারিত সময়ের পর কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কোনওভাবে তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিয়ের যেসব ছবি ভাইরাল হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটিতে দেখা যাচ্ছে, নব দম্পতি মালাবদল করছেন। কোনওটিতে আবার সিঁদুরদানের পর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন দু’জন। কার বুদ্ধিতে কলেজে এই বিয়ের আসর বসানো হয়েছিল, এর পিছনে কার হাত ছিল, বিরোধীরা বিয়ের এইসব ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, এই ঘটনা ইউনিয়ন রুমে হয়নি। ছাত্র সংসদের ঘরেও কোনও বিয়ের আসর বসেনি। কলেজ সেই সময় বন্ধ ছিল। সম্ভবত ওঁরা পাঁচিল টপকে কলেজে ঢুকেছিলেন। ছাত্রদের ইউনিয়ন রুমের সামনে ঘটনাটি ঘটেছিল। তবে ওঁরা ক্যাম্পাসে বিয়ের অনুষ্ঠান উদ্যাপন করছে, তা জানার পরেই ওঁদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ওই ছাত্রীকে কলেজে আসতেও বারণ করা হয়েছে। এদিকে, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার দাবি, এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
প্রায় প্রতিদিন যেভাবে নানা কীর্তিকলাপ সামনে আসছে, তাতে কলেজ ক্যাম্পাস বা ইউনিয়ন রুমকে এক শ্রেণির ছাত্রনেতা নিজেদের সম্পত্তি ভেবে যা ইচ্ছে তাই করছেন বলে অভিযোগ। সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজ, বারাসত কলেজ, কিংবা সোনারপুর মহাবিদ্যালয়— সব ক্ষেত্রেই ওই নেতাদের আধিপত্য কায়েমের চেষ্টাই ফুটে উঠেছে।-নিজস্ব চিত্র