বিদ্যুৎকান্তি বর্মন, ফালাকাটা: প্রায় পাঁচ হাজার আমন্ত্রিতকে নিয়ে বিয়ের আসর বসতে চলেছে ফালাকাটা থানা চত্বরে। প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচশো বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলির কাজও শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা।
বিদ্যুৎকান্তি বর্মন, ফালাকাটা: প্রায় পাঁচ হাজার আমন্ত্রিতকে নিয়ে বিয়ের আসর বসতে চলেছে ফালাকাটা থানা চত্বরে। প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচশো বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলির কাজও শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা।
ফালাকাটা থানা আবাসন ও শ্যামাপুজো কমিটির উদ্যোগে আগামী ৩ আগস্ট বিয়ে। স্থান ফালাকাটা থানা চত্বরের কালীমন্দিরের পাশে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের দাবি মেনে থানা চত্বরে বহু পুরনো বট ও পাকুড় গাছের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় আচরণ ও পরিবেশ সচেতনতার মেলবন্ধনে এই অভিনব আয়োজন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
এই বিয়ের অনুষ্ঠানে এখন কে কি করবেন, কি পরবেন সেটাই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের একাংশ ইতিমধ্যেই বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছেন। অনেকেই আবার বট-পাকুড়ের বিয়েতে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপহার হিসেবে সোনাও উৎসর্গ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
ফালাকাটা থানা চত্বরে কালীমন্দিরের পাশেই বহু পুরনো একটি বটগাছ। পাশে থাকা পাকুড় গাছের সঙ্গে এই ‘বিবাহ’ কেবলমাত্র আধ্যাত্মিকতার নিদর্শন নয়, পরিবেশরক্ষার এক বার্তাও। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গাছের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে এই উদ্যোগ। স্থানীয় মানুষ, স্কুল পড়ুয়ারা অংশ নিচ্ছে বিয়ের আয়োজনে। থানা কর্তৃপক্ষও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিয়ে উপলক্ষ্যে গাছ দু’টিকে সাজানো হবে আলপনা, ফুলের মালা, রঙিন কাপড়ে। আসবে ব্যান্ডপার্টি। পাঁচজন পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে যজ্ঞ করে বিয়ের অনুষ্ঠানপর্ব সম্পন্ন করবেন। অনুষ্ঠানে ছেলের অভিভাবকের দায়িত্বে স্থানীয় বাসিন্দা শুভব্রত দে, মেয়ের অভিভাবক নাল্টু তালুকদার। ঘটক বিমল সাহা। বরযাত্রী থেকে কন্যাদান, সিঁদুর দান থেকে বউভাত-সবটাই হবে সনাতনী বিয়ের নিয়ম মেনে।
শুভব্রত বলেন, দু’বছর ধরে এই উদ্যোগ নিচ্ছি আমরা। অবশেষে ৩ আগস্ট বিয়ের দিন ঠিক হয়েছে। ২ আগস্ট সন্ধ্যায় গঙ্গা নিমন্ত্রণ ও পরের দিন পুরোহিতদের উপস্থিতিতে হবে বিয়ে। রাতেই বউভাত। সমাজের বিশিষ্টরা, পড়ুয়া, দুঃস্থ মানুষ, ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিমন্ত্রিত করা হচ্ছে। মেনুর ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
ফালাকাটা থানার আইসি অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, গোটা আয়োজন থানা আবাসন ও শ্যামাপুজো কমিটি করছে। গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান, এই বার্তা দিতে চাই আমরা।