Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোদ উঠতেই নতুন জামা গায়ে মণ্ডপে, ‘ঠাকুর দেখা যাবে না?’ পুলিশকে প্রশ্ন তরুণীর

দুর্যোগ কাটিয়ে সবে রোদের মুখ দেখেছে শহর কলকাতা। বুধবারই কি আর মণ্ডপে সেই ভিড় হবে? গড়িয়াহাট থানা লাগোয়া একটি চায়ের দোকানে চলছিল এই চর্চা। আলোচনা শেষ হতে না হতেই দোকানে ঢুকল এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী।

রোদ উঠতেই নতুন জামা গায়ে মণ্ডপে, ‘ঠাকুর দেখা যাবে না?’ পুলিশকে প্রশ্ন তরুণীর
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্যোগ কাটিয়ে সবে রোদের মুখ দেখেছে শহর কলকাতা। বুধবারই কি আর মণ্ডপে সেই ভিড় হবে? গড়িয়াহাট থানা লাগোয়া একটি চায়ের দোকানে চলছিল এই চর্চা। আলোচনা শেষ হতে না হতেই দোকানে ঢুকল এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী। চারটে চা, কেক আর একটা কোল্ড ড্রিঙ্ক কিনে তাঁরা মেতে উঠলেন ঠাকুর দেখার ‘রুট’ নিয়ে। আগে থেকেই যাঁরা আড্ডা দিচ্ছিলেন, তাঁদের কানও এবার গেল প্যান্ডেল হপিংয়ে বেরোনো এই তরুণ-তরুণীদের দিকে। সেই সময় একডালিয়া এভারগ্রিন উদ্বোধন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি সিংহি পার্কে আসবেন। তাই সেই রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সানগ্লাস চোখে শাড়ি পরে এক তরুণীর আগমন। সঙ্গে তাঁর বন্ধু। ব্যারিকেড দেখে পুলিশকেই সটান প্রশ্ন, ‘ঠাকুর দেখা যাবে না?’ পুলিশের উত্তর, ‘মিনিট ১৫ দাঁড়িয়ে যান। উদ্বোধন হয়ে গেলেই যাবেন।’ ‘তাহলে ততক্ষণে একটু কিছু খেয়ে নিই’—এই বলে এগিয়ে গেলেন তাঁরা। 

Advertisement

মেঘলা আকাশ সরে গিয়ে চড়া রোদ উঠতেই চারপাশে নতুন জামা আর পারফিউমের গন্ধ। শাড়ির আঁচল উড়িয়ে মণ্ডপকে ব্যাকড্রপে রেখে শুরু হয়ে গিয়েছে ছবি তোলার ধুম। কিন্তু বালিগঞ্জ স্টেশন চত্বরে এখনও জল জমে রয়েছে। সে খবর পৌঁছেছে প্যান্ডেল হপারদের কাছেও। তাই মেট্রোই বেছে নিচ্ছেন অনেকে। একে একে ত্রিধারা, বালিগঞ্জ কালচারাল, সমাজসেবী, সিংহি পার্ক, হিন্দুস্থান পার্ক হয়ে একডালিয়ার মণ্ডপ ঘুরছেন তাঁরা। অনেকেই এদিন পৌঁছে গিয়েছিলেন দেশপ্রিয় পার্কে। বিরাট নৌকার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাও চলল। কিন্তু ঠাকুর কীভাবে দেখা যাবে? কারণ, প্রবল বৃষ্টির পর এদিন পুরোদমে কাজকর্ম চলছে সেখানে। তাতে খুব একটা হতাশ নন তরুণ-তরুণীরা। ফাঁকা মাঠ আর রোদের আলো পেয়ে ছবি তোলাতেই মন দিয়েছিলেন তাঁরা। একই ছবি ফুটে উঠেছে বেহালার পুজো মণ্ডপগুলিতেও। এদিন বেহালা নূতন দলে দেখা গেল ‘বাইক বাহিনী’র ভিড়। নতুন জামা গায়ে সকলে নেমে পড়েছেন দেবী দর্শনে। আশুতোষ কলেজের দুই পড়ুয়া ঠাকুর দেখতে এসে বলছিলেন, ‘আবহাওয়ার যা অবস্থা, যে কোনও দিন সমস্যায় পড়তে হবে। তাই রোদ দেখে আর দেরি করিনি। বেরিয়ে পড়লাম।’
উত্তরের চিত্রটাও কমবেশি এক। বাগবাজার তালবেতালের আলোকোজ্জ্বল মণ্ডপে ছবি তোলার জন্য তরুণ-তরুণীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যা নামতেই ভালো ভিড় জমে যায় সেখানে। পিছিয়ে নেই কুমোরটুলি পার্ক। সকাল থেকেই সেখানে সব বয়সের মানুষের ভিড়। 
এখনই বেরিয়ে পড়লেন? কানের পাশ দিয়ে এমন প্রশ্ন করে ফেললেই নানা উত্তর ভেসে আসছে। মূলত, আবহাওয়াকে কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাই রোদের ঝিলিক দেখা গেলেই সব কাজ ফেলে আগে ঠাকুর দেখাতেই মন দিতে চাইছে উৎসবমুখর বাঙালি। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, আজ বৃহস্পতিবার আবাহাওয়া ভালো থাকলে আরও ভিড় হবে। কারণ, সপ্তমী, অষ্টমীর জন্য কেউ অপেক্ষা করতেই রাজি নয়!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ