Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভ্যাসেই গায়ে সোয়েটার, রোদে ঘামছে শহর

শীত যাই যাই করছে। কিন্তু চলে যায়নি। সকালে, রাতে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে ভালোই। তবে দিনকয়েক আগেও যে রোদ মিঠে লাগছিল, এখন বেলা বাড়লেই তা অসহ্য হয়ে উঠছে।

অভ্যাসেই গায়ে সোয়েটার, রোদে ঘামছে শহর
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীত যাই যাই করছে। কিন্তু চলে যায়নি। সকালে, রাতে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে ভালোই। তবে দিনকয়েক আগেও যে রোদ মিঠে লাগছিল, এখন বেলা বাড়লেই তা অসহ্য হয়ে উঠছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা কায়িক পরিশ্রম করলে ঘামতে হচ্ছে রীতিমতো। রোদের মধ্যে দু’পা হাঁটলে কিংবা ভিড় বাস-মেট্রোতে উঠলেও ঘাম ঝরছে। তবে এখনই শহরবাসী গরম পোশাক তুলে দেয়নি। গত দু’মাসের অভ্যাসে গায়ে থাকছে সোয়েটার। আর তখনও ঘামতে হচ্ছে।

Advertisement

বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৯ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি। এটিও স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি। এই তথ্যই বুঝিয়ে দিয়েছে, এখন না-গরম, না-ঠান্ডার সময়! আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বলছে, জানুয়ারির শেষে এমন তাপমাত্রা স্বাভাবিক। আগামী পাঁচ-ছ’দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনো হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গোটা দক্ষিণবঙ্গেই তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকার আবহাওয়া উলটো। সেখানে বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিন কলকাতা লাগোয়া দমদম ও সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৪ ও ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ক্যানিং ও কল্যাণীতে কিন্তু এখনো শীতের ছোঁয়া স্পষ্ট। এদিন কল্যাণীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৫ ডিগ্রি। এছাড়া, ক্যানিংয়ে ১২.৪ ও বারাকপুরে ১২.৮ ডিগ্রি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বসিরহাট, কাকদ্বীপের তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির আশপাশে ছিল। ডায়মন্ডহারবারে এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.২ ডিগ্রি।

এই অবস্থায় সল্টলেকে বইমেলা থেকে বিবাদী বাগ অফিসপাড়া—সর্বত্র গায়ে গরম পোশাক চাপিয়ে নাজেহাল হতে দেখা গেল আম জনতাকে। স্কুল থেকে ফেরার পথে গায়ে গরম জামা রাখতে নারাজ পড়ুয়ারাও। মায়েরা মাথায় ছাতা দিয়ে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছেন স্কুলের সামনে। কলকাতা বইমেলায় দেখা গেল, জানুয়ারিতেই দেদার বিক্রি হচ্ছে আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়। দুপুরের দিকে ডেকার্স লেনে খেতে আসা চাকুরিজীবীদের বক্তব্য, ‘বেশ কয়েক বছর পর এবার শীত ভালোই পড়েছিল। স্থায়ীও হয়েছে অনেকদিন। ফলে সারাক্ষণ গায়ে সোয়েটার চাপিয়ে রাখা একপ্রকার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। এখন বেশ গরম লাগলেও সেই অভ্যাসেই সোয়েটার চাপানো হচ্ছে বলতে পারেন।’ যদিও একাংশের বক্তব্য, রাতে বাড়ি ফেরার সময় বেশ ঠান্ডা লাগছে এখনো। বাইক চালাতে গেলে তো জ্যাকেট মাস্ট। বারুইপুরের এক বাসিন্দা বলছিলেন, ‘কলকাতায় একটু গরম হলে কী হবে? আমাদের এদিকে এখনো বেশ ঠান্ডা। তাই রাতের দিকে তো বটেই, সকালের দিকেও গরম জামা লাগছে।’ কলকাতার বাসিন্দারা বলছেন, ‘রাতে ঘুমনোর সময় বেশিক্ষণ কম্বল বা লেপ গায়ে দিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ধীরে ধীরে চাদরে ফিরতে হচ্ছে।’

আবার কি ঠান্ডা কামব্যাক করতে পারে? সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখন এটাই। যদিও আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর এখনই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ