Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ময়ূরপুচ্ছের সাজ কিংবা পাগড়ি পরা শেঠ ব্যবসায়ী, কুমোরটুলিতে বিক্রি বেড়েছে রকমারি গণেশ মূর্তির

কোথাও কার্তিকের থেকে ময়ূরের পালক ধার করে পরেছেন গণেশ। কোথাও ব্যবসায়ী শেঠের মতো মাথায় পাগড়ি দিয়েছেন পার্বতীনন্দন।

ময়ূরপুচ্ছের সাজ কিংবা পাগড়ি পরা শেঠ ব্যবসায়ী, কুমোরটুলিতে বিক্রি বেড়েছে রকমারি গণেশ মূর্তির
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও কার্তিকের থেকে ময়ূরের পালক ধার করে পরেছেন গণেশ। কোথাও ব্যবসায়ী শেঠের মতো মাথায় পাগড়ি দিয়েছেন পার্বতীনন্দন। কোথাও বায়না করে শিবের কাছ থেকে বাগিয়েছেন বাঘছাল, তা পরে বসে আছেন ভুঁড়ি বাগিয়ে। পুজো কমিটির লোকজন আসা শুরু করে দিয়েছেন কুমোরটুলিতে। সেজেগুজে তৈরি সিদ্ধিদাতাও। বুধবার তাঁর পুজো। সেদিন গণেশ চতুর্থী।

Advertisement

এই সময়ে ভিড়ে মুম্বইতে পা রাখা যায় না। এখন গণেশ পুজোয় ভিড় কম হয় না কলকাতায়ও। ফলে মূর্তি তৈরির তুমুল ব্যস্ততা চলছে কুমোরপাড়াগুলিতে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও গণেশ তৈরির কাজ চলছে শিল্পীদের ঘরে। গণেশ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কদিন বাদেই বিশ্বকর্মা পুজো। তারপরই দুর্গা পা রাখবেন বঙ্গে। সবমিলিয়ে কলকাতার কুমোরটুলিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। শনিবার রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট, বনমালি সরকার স্ট্রিট সহ বহু এলাকায় দেখা গিয়েছে, শিল্পীদের ঘর আলো করে বসে আছেন গণেশ ঠাকুর। দুর্গাপুজোর আগে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে। পটুয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আগের তুলনায় এখন সিদ্ধিদাতার আরাধনা বেড়ে গিয়েছে। হাতে মাত্র কয়েকদিন রয়েছে। তাই দুর্গার কাজ সরিয়ে চলছে গণেশের ফিনিসিং টাচ।
এখন ছোট, মাঝারি‑বড় মিলিয়ে বিভিন্ন সাইজের গণেশ শিল্পীদের ঘরে বিক্রি অপেক্ষায় আছে। কেউ বানিয়েছেন ঢাউস আকারের মূর্তি। বনমালি সরকার স্ট্রিটের শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘৮০০ থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা দামেরও গণেশ বিক্রি হচ্ছে কুমোরটুলিতে।’ কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জিত সরকার বলেন, ‘হাজার থেকে দু’হাজার টাকার গণেশ বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাগড়ি পরা গণেশের চাহিদাই বেশি।’ সমর পাল, কমল পাল, দীপঙ্কর পাল নামে কয়েকজন শিল্পীর বক্তব্য, ‘বিভিন্ন মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ডিজাইনের গণেশ তৈরি হয়েছে। ফলে চিত্রবিচিত্র আর্টের গণেশ মূর্তির বিক্রি বাড়ছে।’
বাগুইআটি থেকে প্রবীর সামন্ত তাঁর স্ত্রী ডলি সামন্তকে নিয়ে কুমোরটুলিতে এসেছিলেন গণেশ কিনতে। তিনি কুমোরটুলি থেকে ১২০০ টাকা দামের মূর্তি কেনেন। রংচঙে পাগড়ি পরা গণেশ পছন্দ করলেন ডলিদেবী। তিনি বলেন, ‘এবার পুজো ৯ বছরে পা দিল। প্রতিবছর কুমোরটুলি থেকেই ঠাকুর কিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’ পাইকপাড়ার বাসিন্দা সুছন্দা বণিক তাঁর নবম শ্রেণির পড়ুয়া পুত্র সজলকে নিয়ে এসেছিলেন গণেশ কিনতে। তাঁরাও পাগড়ি পরা ব্যবসায়ী গণেশ কিনলেন। দাম নিল আড়াই হাজার টাকা। কুমোরটুলিতে যেমন গণেশ কেনার তোড়জোড়। তেমনই চড়েছে মোদকের বাজার। এই মিষ্টিটি নাকি গণেশ ঠাকুরের সবথেকে প্রিয় মিষ্টান্ন। ফলে কলকাতায় দেদার বিক্রি হয় এখন। আগে তেমন দেখা যেত না মিষ্টির দোকানগুলিতে। এখন বানাচ্ছেন অনেকে। আর বিক্রি হচ্ছে ভালো পরিমাণে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ