Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্গি বিজেপিকে রুখবই: মমতা, বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে হুংকার

গায়ের জোরে বাংলা দখল করতে চাইছে বিজেপি। আর সেই লক্ষ্যেই দিল্লির হানাদাররা কেড়ে নিয়েছে বাংলার যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার।

বর্গি বিজেপিকে রুখবই: মমতা, বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে হুংকার
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী ও স্বার্ণিক দাস, উত্তরপাড়া ও কলকাতা: গায়ের জোরে বাংলা দখল করতে চাইছে বিজেপি। আর সেই লক্ষ্যেই দিল্লির হানাদাররা কেড়ে নিয়েছে বাংলার যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার। ভোটের সময় বাংলায় এসে মানুষকে গাছে বেঁধে উলটো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গোবলয়ের বুলডোজার রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দুমড়ে মুচড়ে দিতে চাইছেন রাজ্যের ঐতিহ্য-কৃষ্টি-সংস্কৃতি। প্রথম দফায় হারের আঁচ পেয়ে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন নরেন্দ্র মোদি। মন্ত্রী-সান্ত্রি, লোকলস্কর, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া গাড়ি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বাংলা দখল করতে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে  গেরুয়া শিবিরের এই ‘অপচেষ্টা’কে তীব্র কটাক্ষ করে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুংকার, ‘এরা হচ্ছে বর্গি। এরা হচ্ছে হানাদার-হল্লা বাহিনী। বাংলাকে লুট করতে এসেছে। এঁদের বিরুদ্ধে একটা করে ভোট দিন, আর রাজনৈতিকভাবে গেঁথে দিন। মনে রাখবেন এদেরকে আমি রুখবই।’

Advertisement

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রায় দশ বছর বাংলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী অংশের গ্রামাঞ্চলে লুটতরাজ চালাত অশ্বারোহী বর্গির দল। বাংলার শিশুভোলানো ঘুমপাড়ানি ছড়ায় অমর হয়ে রয়েছে সেই কালো দিনের ইতিহাস। শনিবার উত্তরপাড়ার জনসভায় মমতা ভিনরাজ্য থেকে উড়ে আসা বিজেপি নেতাদের তুলনা করলেন সেই বর্গিদের সঙ্গে। বললেন, ‘আমাদের তিনটে হেলিকপ্টার নেই। আর ওদের দেখুন, বাংলার আকাশে ৫০টা হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনে ছাপ্পা ভোট এবং বুথ ক্যাপচার করতে আড়াই লক্ষ বাহিনী পাঠিয়েছে। এত ফোর্স কেন? বাংলাকে জবরদস্তি দখল করতে চাইছ? দিল্লি থেকে যে নেতারা আসছে, তারা বলছে, বন্দুক নিয়ে এসো, ডান্ডা নিয়ে এসো, মানুষকে মারো, ভোট দিতে দিও না। কেন? গণতন্ত্রে সবার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। দিল্লি মনে রেখ, আমি ভোটের মাধ্যমে বদলা নেবই।’ সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নামে তৃণমূলের প্রায় এক হাজার কর্মীর গ্রেপ্তারির চক্রান্ত করেছিল বিজেপি। আদালতে গিয়ে সেই চেষ্টা আটকে দেওয়ার জন্য এদিন উত্তরপাড়ার মঞ্চে উপস্থিত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদও জানিয়েছেন দলনেত্রী।
এদিন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রী একাধিক সভা করেছেন। রাতে নির্বাচনি প্রচার করেন বেহালা চৌরাস্তায়। সন্ধ্যায় ভবানীপুরে ডাঃ রাজেন্দ্র রোড এবং জাস্টিস দ্বারকানাথ রোডের সংযোগস্থলে এক কর্মসূচিতে বর্গি হানা আটকে চতুর্থবার সরকার গড়ার প্রত্যয়ী বার্তা দেন জননেত্রী। বলেন, ‘ভবানীপুরে আমার নামটা দু’নম্বরে আছে। এটা ভিক্ট্রি চিহ্ন। আপনারা জানেন, সরকার আমরাই করব। আপনারা যদি আমার নেতৃত্বে সরকার চান, তাহলে তৃণমূলকে ভোট দিন।’ তবে মহারাষ্ট্রের মতো এ রাজ্যে বিজেপি যাতে ঘোড়া কেনাবেচার পথে না যেতে পারে, সেজন্য তৃণমূলকে অধিকাংশ আসনে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান মমতা। দ্বিতীয় দফার ভোটে বর্গি হানা রুখে দেওয়ার টোটকাও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। নির্দিষ্ট করে বাঁকুড়া-হুগলির তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘বিষ্ণুপুর-বাঁকুড়ার কর্মীদের কাজে লাগিয়ে বড়জোড়ার দিকে ক্যাম্প করবে। ভাবাদিঘিতে দু-তিনটে ক্যাম্প করতে হবে যাতে বাইরের গুন্ডারা ঢুকতে না পারে। প্রত্যেকটা জায়গায় যত হোটেল-গেস্টহাউস আছে, সেখানেও যাতে কেউ ঢুকে বসে না থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’ একই সঙ্গে গাছে উলটো ঝুলিয়ে মারা সংক্রান্ত মন্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিনও এনআরসির কথা শোনা গিয়েছে মমতার গলায়। বাংলার মানুষকে ভিটে মাটি ছাড়া করার গেরুয়া চক্রান্তের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার পরে, কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ যত্ন করে রেখে দিন। পরে কাজে লাগবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ