পাটনা ও কানপুর: ‘সন্ত্রাসবাদ যদি ফের ফণা তোলার চেষ্টা করে, তাহলে এবার গর্ত থেকে বের করে পিষে মারা হবে।’ বিহারের কারাকাটে গিয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের উদ্দেশে ফের হুঙ্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার পাটনা থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরের কারাকাটে জনসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, অপারেশন সিন্দুর ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারের মাত্র একটি ‘তীর’। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষও হয়নি, স্থগিতও হয়নি। পহেলগাঁওয়ে হামলার ঠিক পরেই বিহারের মধুবনীতে এক জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন মোদি। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তখন আমি বলেছিলাম, অপরাধীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে তারা স্বপ্নেও ভাবতে পারবে না। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পর আজ ফের বিহারে এসেছি। সিঁদুরের শক্তি কী হতে পারে, তা পাকিস্তান সহ গোটা বিশ্ব দেখেছে।’
ইসলামাবাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীরা মনে করত যে পাকিস্তানি সেনার নিরাপত্তা বলয়ে তারা সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু আমরা তাদের হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছি। এটাই নতুন ভারত।’ পহেলগাঁও হামলার পরিকল্পনা যারা করেছিল, তাদের ডেরা ভারতীয় সেনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন মোদি।
‘অপারেশন সিন্দুর’ পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে শহিদ হয়েছিলেন বিএসএফ জওয়ান মহম্মদ ইমতিয়াজ। বিহারের সারনের বাসিন্দা শহিদ জওয়ানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের অন্যতম নায়ক ছিলেন বিহারের জগদীশপুরের রাজা বীর কুনওয়ার সিং। তিনি যেভাবে লড়াই করেছিলেন, তার সঙ্গে ইমতিয়াজের লড়াইয়ের তুলনা চলতে পারে। বিএসএফের প্রশংসা করে মোদি বলেন, ‘ভারতমাতার সেবা করাই বিএসএফ জওয়ানদের কাছে সর্বোচ্চ কর্তব্য।’ একসময় মাওবাদী আন্দোলনের অন্যতম ঘাঁটি কারাকাটে যে সুশাসন ফিরেছে, সেকথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব শত্রুদের বিরুদ্ধেই আমরা লড়াই করছি।’ এদিন ভোটমুখী বিহারে ৫০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিহার ছাড়াও এদিন উত্তরপ্রদেশের কানপুরেও একটি সভায় বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তিনি জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’ এখনও শেষ হয়নি। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতার প্রশংসা করে মোদি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর জন্যই পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধের আবেদন করতে বাধ্য হয়। কানপুরের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার আগে চাকেরি বিমানবন্দরে পহেলগাঁও হামলায় নিহত শুভম দ্বিবেদীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। শুভমের ভাই সৌরভ জানান, তাঁদের পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুভমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতেও দেখা যায় মোদিকে। কানপুরের সভা থেকেও প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার ১৫টি প্রকল্পের শিল্যানাস করেন প্রধানমন্ত্রী।