তিয়ানজিন, ১ সেপ্টেম্বর: বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের সামনেই সন্ত্রাসবাদ ও পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার বিষয়ে কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ, সোমবার চীনের তিয়ানজিনে বসেছিল এসসিও(সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) সামিট। তাতে একাধিক বিষয়ে আলোকপাত করার পাশাপাশি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মোক্ষম জবাব ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাতে মদত দেওয়া রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মোদি। এসসিও সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘গত চার দশক ধরে সন্ত্রাসের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে ভারত। সন্ত্রাসের সবচেয়ে খারাপ নিদর্শন আমরা দেখেছি পহেলগাঁওতে। সেই কঠিন সময়ে যে সকল বন্ধু দেশ আমাদের পাশে ছিল, তাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দ্বিচারিতা আমরা সহ্য করব না। কোনও একটি দেশের উপর সন্ত্রাসবাদ বিপজ্জনক তা নয়, জঙ্গিরা সমগ্র মানব সমাজের জন্যই বড় বিপদের।’
মোদি আরও বলেন, ‘কিছু দেশ জঙ্গি সংগঠনগুলিকে যে ভাবে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে তা কি বরদাস্ত করা উচিত? শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতবস্থা, একটি দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন। কিন্তু এর পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থা। এসসিওতে ভারতের লক্ষ্য ও নীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে তিনটি বিষয়ের উপর, এস-নিরাপত্তা(S FOR SECURITY), সি(C FOR CONNECTIVITY)-যোগাযোগ এবং ও(O FOR OPPORTUNATY)-সুযোগ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ় এবং এতে এসসিও-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
এসসিও বৈঠক ছিল ভারতের কাছে বড় মঞ্চ। সেখানেই সুকৌশলে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে নাম না করেই পাকিস্তানকে বিঁধেছেন মোদি। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে বড় সাফল্য পেয়েছে ভারত। এসসিও-এর সামিটে যোগ দেওয়া রাষ্ট্রনেতারা পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। জঙ্গি হামলায় নিহত ও জখমদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা। এই হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি সংগঠন ও তাঁর সহকারীদের উপর বিচার শুরু হোক। বিষয়টি বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে এসসিও-এর ঘোষণাপত্রে। যদিও গোটা বিষয়টিতে কোনও দেশ পাকিস্তানের নাম নেননি।