নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে এখন যাঁরা দলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, তাঁদের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খোলা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করে দিলেন,গদ্দার-বেইমানদের দলে ফিরিয়ে নেব না।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে এখন যাঁরা দলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, তাঁদের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খোলা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করে দিলেন,গদ্দার-বেইমানদের দলে ফিরিয়ে নেব না।
মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামন্ডলের সামনে একুশে জুলাইয়ের শহিদ তর্পন কর্মসূচি করে কালীঘাট তৃণমূল। বরাবরের মতো এদিনও শহিদ পরিবারের সদস্যরা হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায়। সভাস্থল উপচে পড়েছিল জনতার ভিড়ে। গাছের উপরে উঠেও মমতার বক্তব্য শুনেছেন অনুগামীরা। তৃণমূল বিদ্রোহীদের ছবিতে জুতোর মালা পরাচ্ছেন দলের কর্মীরা, এমন দৃশ্যও দেখা গিয়েছে। । আওয়াজ উঠেছে, হৃদয় জুড়ে মমতা। যে সূত্রেই বক্তব্য রাখতে উঠে কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সভা প্রমাণ করে দিয়েছে তৃণমূল শিখরের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর যে গদ্দাররা ৫-১০ ওয়াটের বাল্ব হওয়ার যোগ্যতা নেই, আজ তাঁরা বিজেপির ছত্রছায়ায় নিজেদের হ্যালোজেন বলে দাবি করছেন। কিন্তু ওঁরা ভুলে গিয়েছেন, ওই হ্যালোজেনে বিদ্যুৎ সঞ্চার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই নেত্রীর কাছে অনুরোধ করব, পুঁজ, বদ রক্ত, আবর্জনা দল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। ওঁদের আর ফেরত নেবেন না।
ঠিক এরপরই বক্তব্য রাখতে উঠে তৃণমূল বিদ্রোহীদের উদ্দেশে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ওঁদেরকে একদম নেব না। তৃণমূলের প্রতীক, দলীয় তহবিল কেড়ে নিলেও, ওরা মানুষকে কেড়ে নিতে পারবে না। আমরাই আসল তৃণমূল। আমি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট যাব। আর ওদের বিরুদ্ধে ইনডোর-আউটডোর লড়াই করব। কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসার পর্ব স্মরণ করিয়ে মমতা বলেন, ১৯৯৭ সালেও ইনডোর-আউটডোর করেছিলাম। প্রসঙ্গত, ওই সময় কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মমতার দূরত্ব বাড়ছিল। ১৯৯৭ সালে সেই সময় কলকাতায় কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন হয়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কংগ্রেসের সভা হয়েছিল। আর বাইরে কর্মীদের নিয়ে জনসভা করেন মমতা। তারপরই ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন তিনি।
দলের বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বিজেপিকেও চড়া সুরে নিশানা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় বিজেপির বুলডোজার সরকার চলছে। ইডি, সিবিআই, পুলিশকে কাজে লাগিয়েতৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসেই মন্দিরের প্রণামী বাক্স লুট করছে। বিজেপি সরকার বলছে, করোনা সময়কালের বিষয় নিয়ে তদন্ত হবে। তাতে কিন্তু নরেন্দ্র মোদিও ফাঁসবেন। একইসঙ্গে এদিন মঞ্চ থেকে মমতা ঘোষণা করেন, লড়াই করুন। বিজেপির ভাত খাওয়ার থেকে জেলের ভাত খাওয়া ভালো। এটা নতুন স্বাধীনতা সংগ্রাম। জেলে গেলে স্বাধীনতা সংগ্রামী। কর্মীরা মালা পরিয়ে ছাড়িয়ে আনবেন। এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখার পর্বে মমতার সঙ্গে সাময়িক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ক্ষুব্ধ কল্যাণ মঞ্চ থেকে নেমে চলে যান।