Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বিজয় উৎসব এই মাঠেই করব’, কোচবিহারে প্রতিজ্ঞা অভিষেকের

কোচবিহারের এবিএন শীল কলেজের সামনে দুপুর থেকেই মানুষের ভিড় জমছিল। বেলা পৌনে দু’টোর তীব্র রোদে যখন চারদিক উত্তপ্ত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার নামে কলেজের মাঠে।

‘বিজয় উৎসব এই মাঠেই করব’, কোচবিহারে প্রতিজ্ঞা অভিষেকের
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের এবিএন শীল কলেজের সামনে দুপুর থেকেই মানুষের ভিড় জমছিল। বেলা পৌনে দু’টোর তীব্র রোদে যখন চারদিক উত্তপ্ত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার নামে কলেজের মাঠে। শুরু হয় রোড শো।

Advertisement

কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়, নাটাবাড়ির দলের প্রার্থী শৈলেন্দ্রনাথ বর্মা, সিতাইয়ের প্রার্থী সঙ্গীতা রায়দের নিয়ে যখন অভিষেকের রোড শো শুরু হয়, চারদিকে শুধুই মানুষের ঢল। রোড শো মদনমোহন মন্দিরের সামনে এলে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন অভিষেক। মন্দিরে ঢুকে মদনমোহনকে প্রণাম সেরে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। সেখান থেকে বিএস রোড, দাস ব্রাদার্স, মীনাকুমারী চৌপথি হয়ে রোড শো পৌঁছয় পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া ময়দানে। রাস্তার দু’পাশে থাকা মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে নমস্কার জানান।
পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া ময়দানের সামনে পৌঁছে অভিষেক বলেন, এক সপ্তাহ আগে নরেন্দ্র মোদি কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে সভা করতে এসেছিলেন। আমরা এই শহরে এলে ঠাকুর মদনমোহনের কাছে পুজো দিয়ে দিন শুরু করি। রাসমেলা মাঠ থেকে মদনমোহন মন্দির হেঁটে গেলে দু’মিনিট সময় লাগে। সেই মন্দিরে তিনি যাননি। দর্শনের প্রয়োজন বোধ করেননি। 
এসআইআর আবহে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। নাম তোলার জন্য মানুষের হয়রানির শেষ নেই। সেই সময় দাঁড়িয়ে অভিষেক বললেন, ৪ মে’র পর 
একমাসের মধ্যে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
কোচবিহারে এসে এখানকার বিদায়ী বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে’কে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, এবার এখানে বিজেপির যিনি প্রার্থী, তিনি শিলিগুড়িতে থাকেন। আর বিপরীতে অভিজিৎ দে ভৌমিক। যাঁকে রাত দু’টোয় ডাকলেও পাবেন। ২৩ তারিখ দেখাতে হবে মানুষের কী ক্ষমতা। কোচবিহার বিধানসভায় এবার ২৫ হাজারের বেশি ভোটে হিপ্পিকে জেতাতে হবে।
এদিনের বক্তব্যে কোচবিহারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপি নেতারা এলে তাঁদের দিয়ে হাত-পা টেপান। মা- বোনেরা ঝাড়ু হাতে দিয়ে দিন। ঘর পরিষ্কার করান। আর হিপ্পিকে জেতান। রাত দু’টোয় ডাকলেও পাবেন। যারা আমাদের উপর হামলা করেছে, তাদের ক্ষমতা দেখাতে হবে। বিজেপি নেতা শুকটাবাড়িকে বাংলাদেশ বলেছিল। আমি সেই জায়গায় এসেছি। গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিয়ে হেস্তনেস্ত করব।
নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে প্রত্যয়ী অভিষেক এদিন ঠিক করে দেন, ভোটে জয়ের পর কী করতে হবে। চার তারিখের পর শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে, প্রয়োজনে ডিজেও বাজবে বলে তিনি জানান। বলেন, যে যে ভাষায় বোঝে, তাকে সেই ভাষায় জবাব দিতে জানি। জয়ের নিরিখে কোচবিহার যেন এক নম্বরে থাকে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না। এঁরা নাকি তিন হাজার দেবে! বিজয় উৎসব এই মাঠেই করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ