Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লড়ব, বাংলাকে জেতাব: মমতা, বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জন, নাম বাদ দিয়ে এনআরসির ছক ভেস্তে দেব

বিজেপির টার্গেট বাংলা! মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলা দখলের খেলায় নেমেছে গেরুয়া শিবির। দোসর নির্বাচন কমিশনকে ঢাল করে হিন্দু, মুসলিম, মতুয়া, আদিবাসী সকলের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

লড়ব, বাংলাকে জেতাব: মমতা, বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জন, নাম বাদ দিয়ে এনআরসির ছক ভেস্তে দেব
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, অভিজিৎ চৌধুরী, রামকুমার আচার্য, আরামবাগ, বলাগড়, শ্রীরামপুর: বিজেপির টার্গেট বাংলা! মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলা দখলের খেলায় নেমেছে গেরুয়া শিবির। দোসর নির্বাচন কমিশনকে ঢাল করে হিন্দু, মুসলিম, মতুয়া, আদিবাসী সকলের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মোটা ভাই (অমিত শাহ) ফোন করে এলাকা ধরে ধরে নাম বাদ দিচ্ছেন। বুধবার বিজেপির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে ’২৬-এর মহারণে বাংলাকে জেতানোর অঙ্গীকার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি-শাহকে ‘স্বৈরাচারী’, ‘অত্যাচারী’ বলে আক্রমণও শানালেন। এদিন নির্বাচনি জনসভা থেকে মমতার হুংকার, ‘ওরা আমাদের নাম কাটছে। আমাদের মা-বোনেদের লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতি-অস্মিতাকে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে। আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বাংলার উপর এই আঘাত আমি সহ্য করব না। আমি লড়ব। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়ব। শেষ পর্যন্ত লড়ব এবং বাংলাকে জেতাব।’ এবারের নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের পতন নিশ্চিত বলেও জানিয়েছেন নেত্রী। বিজেপিকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, ‘আর কত ধমকাবেন চমকাবেন! আর তো এক মাস। তার পরেই বিজেপি ধপাস।’

Advertisement

এদিন কলকাতায় মনোনয়ন জমা দিয়েই দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে হুগলির আরামবাগে পৌঁছান মমতা। আরামবাগ ছাড়াও বলাগড় এবং শ্রীরামপুরেও সভা করেন। প্রতিটি সভায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর এই জনজোয়ারকে সাক্ষী রেখেই বিজেপির ভোট কাটার কারসাজির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বোটার বাতিলের নেপথ্যে এনআরসির ছকও ফাঁস করেন। সাফ জানিয়ে দেন, পদ্ম শিবিরের মানুষকে বেনাগরিক করার এই পরিকল্পনা কোনোভাবেই এরাজ্যে বাস্তবায়িত হবে। তাঁর কথায়, ‘এই নাম বাদ দেওয়ার খেলায় এনআরসি করার ছক্কা চলছে। ওই ছক্কাকে অক্কা করে দেব। আমি থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। আমি থাকতে এনআরসি হবে না।’ বিচারাধীন তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’ ব্যক্তিদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও এদিন ছিল মমতার গলায়। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফের আদালতে যাওয়ারও। এমনকি, আইনজীবীর ভুমিকায় লড়াই করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
এনআরসি ইস্যুতে মমতার কথায় এদিন উঠে আসে অসম প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘অসমে এনআরসির নামে ১৩ লক্ষ হিন্দু এবং ৬ লক্ষ মুসলিমকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছিল। এখানেও মালদহ মুর্শিদাবাদ সহ গোটা রাজ্যের ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে।’ তাঁর কেন্দ্র ভবানীপুরের বহু ভোটারের নামও বাদ পড়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলার জয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই মত দলনেত্রীর। কারণ, তাঁর মতে, ‘একটি ভোট থাকলেও সেটি ঘাসফুলের পক্ষেই যাবে।’ 
কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোঁচা দিয়েছেন মমতা। বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে নিশানা করেছেন। বলেছেন, ‘লোক নেই, এজেন্সিকে দিয়ে পোস্টার লাগানো, মিছিল করাচ্ছে। ৫০০ টাকা হাতে গুঁজে দিয়ে মিছিলে লোক বাড়াচ্ছে।’ বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে সিপিএমের কায়দায় ভোট আটকানোর প্ল্যান করছে বলেও সতর্ক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর তেমনটা দেখলে রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য মা বোনেদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ