Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

জনপ্রিয়তা ফেরাতে ময়দানেই ফুটবল চাই: মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য

‘গেটের সামনে দাঁড়িও না। সরে যাও, সরে যাও..।’প্রায় ধাক্কা দিয়েই এক তরুণকে সরিয়ে দিলেন পুলিস অফিসার। ১৯৭৪ সাল। ঘরোয়া লিগে ইস্ট বেঙ্গলের ম্যাচ। ময়দানে জনসমুদ্র।

জনপ্রিয়তা ফেরাতে ময়দানেই ফুটবল চাই: মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  ‘গেটের সামনে দাঁড়িও না। সরে যাও, সরে যাও..।’প্রায় ধাক্কা দিয়েই এক তরুণকে সরিয়ে দিলেন পুলিস অফিসার। ১৯৭৪ সাল। ঘরোয়া লিগে ইস্ট বেঙ্গলের ম্যাচ। ময়দানে জনসমুদ্র। সেই তরুণ নিজেও ফুটবলার। পুলিস ক্লাবের হয়ে অল্প নামডাকও হয়েছে। প্রিয় দলের খেলা দেখতে বন্ধুর সঙ্গে হাজির মাঠে। গ্যালারিতে বসার স্বপ্ন ধাক্কা খেল প্রথমেই। নিয়তির আশ্চর্য পরিহাস। এর তিন বছর পরেই সেই তরুণকে সই করায় ইস্ট বেঙ্গল। তিনি আর কেউ নন, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য।

Advertisement

ঘরোয়া লিগের পর তাঁকে আর বসানোর সাহস হয়নি কারও। অনেকের মতোই কলকাতা লিগ প্রতিষ্ঠা দিয়েছে মনোরঞ্জনকেও। কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট? প্রাক্তন ফুটবলার ফিরে গেলেন সোনালি অতীতে। আসলে পুলিসে খেলার সময় জুনিয়র বেঙ্গল, এমনকী জুনিয়র ইন্ডিয়া স্কোয়াডেও সুযোগ পান তিনি। মনোরঞ্জনের বক্তব্য, ‘রোদ, বৃষ্টিতে খেলা কঠিন। তার ওপর সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ। বাঘা বাঘা প্লেয়ারের হাঁটু কেঁপে যাবে। আমায় প্রতিষ্ঠা দিয়েছে ঘরোয়া লিগ।’ 
ঘরোয়া লিগ কলকাতা ফুটবলের ফুসফুস। অথচ অতীতের সেই রমরমা এখন উধাও। আইএসএল শুরুর পর তা ক্রমশই ফিকে হচ্ছে। কোটিপতি লিগের তারকাদের কাছে ঘরোয়া লিগ দুয়োরানি। এমনকী ফেডারেশনের তুঘলকি নির্দেশে বিদেশি খেলানোতেও রয়েছে নিষেধ। মনোরঞ্জনের আপশোস, ‘লিগের জৌলুস কমতে বাধ্য। বিদেশি তুলে দেওয়া একেবারেই অর্থহীন। এত ভয় কীসের? চ্যালেঞ্জ না নিলে ফুটবলার তৈরি হবে না। লিগকে শুকিয়ে মেরে ফেলার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’ তাঁর সংযোজন, ‘লিগ খেলেই ভারতীয় দল সমৃদ্ধ করেছেন অসংখ্য ফুটবলার। খেলার সংখ্যা কমিয়ে ফুটবলের মানোন্নয়ন হয় না।’ 
অতীতে লিগের ম্যাচে ঘেরা মাঠের গ্যালারিতে দর্শকের বান ডাকত। অথচ ফুটবল মরশুমেই মাঠ সংস্কারের কাজ চলছে ইস্ট বেঙ্গলে। পুরো তৈরি নয় মোহন বাগান মাঠ। অতএব জেলাই ভরসা। মনোরঞ্জনের মন্তব্য, ‘জনপ্রিয়তা ফেরাতে গেলে ময়দানে ফুটবল চাই। অন্য বিকল্প নেই। এটা যত তাড়াতাড়ি বোঝা যাবে,ততই মঙ্গল। ঘেরা মাঠে ফুটবল নেই, তা মানতে পারছি না।’ আইএফএ কর্তারা কি শুনবেন এই পরামর্শ?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ